ইন্দ্রনীল চৌধুরী, বহরমপুরঃ কথায় আছে,স্রোতস্বিনী নদীর গতিপথ কখনও পাহাড় রুদ্ধ করে না, নুড়ি পাথর প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে, কিন্তু গতিপথ রুদ্ধ করতে পারে না। ১৯৯৯ সালে প্রথম জয়ী হয়ে, ভয়ে ভক্তিতে গড়ে তোলা অধীর রাজ আজ অস্তমিত সূর্য। নুড়ি পাথরের সমতুল্য।
তার পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো স্রোতস্বিনী নদীর গতি রুদ্ধ করার শক্তি নেই। এটাই বাস্তব সত্য। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরী পান ৪৬.৮৬ শতাংশ ভোট, ২০০৪ সালে পান ৫১.৫ শতাংশ ভোট, ২০০৯ সালে ৫৬.৯১ শতাংশ ভোট, আর তারপর থেকে অধীর মিথ কমতে শুরু করে ২০১৪ সালে কমে হয় ৫০.৫৪ শতাংশ ভোট, ২০১৯ সালে সেই ভোট আরও কমে দাঁড়ায় ৪৫.৪৭ শতাংশে। ২০১৯ সালে,১০ নম্বর বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার (ভরতপুর, কান্দি, বড়োঞ, বহরমপুর, রেজিনগর, বেলডাঙা, নওদা ) মধ্যে ৪ টি বিধানসভায় তিনি পরাজিত হন, কান্দি ও বহরমপুরের দৌলতে মানরক্ষা হয়।
আরও পড়ুনঃ পাঠান (সেনা?) ভোটে লড়তে এল
তারপরে নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের আসন সংখ্যা শূন্য, ভোট শতাংশ ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বহরমপুর বাদে বাকী ছয়টা বিধানসভাতে তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে। বড়োঞ তে ২৭৪৯,কান্দিতে ৩৮০৮০,ভরতপুরে ৪৩০৮৩,রেজিনগরে ৬৮২৬৮,বেলডাঙাতে ৫৩৮৩২,নওদাতে ৭৪১৫৩ভোটে লিড পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সম্মিলিত সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮০১৬৫।
বহরমপুর বিধানসভাতে তৃণমূল কংগ্রেস জিততে না পারলেও কংগ্রেসকে তৃতীয় স্থানে ফেলে উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। নাড়ুগোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে বহরমপুর বিধানসভায় তৃণমূলের ভোট বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। কংগ্রেস পেয়েছে ৪০১৬৭টি ভোট। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে.৬২৪৮৮টি ভোট। এরপরে ২০২২ সালে পৌর নির্বাচনে কান্দি, বেলডাঙা, বহরমপুর পৌরসভা দখল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দাঁত ফোটাতে পারে নি কংগ্রেস।
আরও পড়ুনঃ ‘সমতা’ আসছে সিপিএমে, ধারেকাছেও নেই বিরোধীরা
২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার জেলা পরিষদের ৪৮টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩টিতে জয় অব্যাহত রেখেছে। পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিকভাবে অধীর নিধন তৃণমূলের হাতেই সম্ভব। পাঁচবারের অধীর মিথ এবার ভেঙে, ১০নং বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে, ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।
(মতামত ব্যক্তিগত)