বিজেপি বিধায়কের হাতে রাখি বাঁধলেন তৃণমূলের কাউন্সিলর

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ নবান্ন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার কলকাতা। নাগাড়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুলিশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই ঘটনাকে সামনে রেখে সমাজমাধ্যমে মল্লযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল ও বিজেপি’র কর্মী সমর্থকরা। এমন অবস্থায় বহরমপুরে ঘটল উলট পুরাণ। বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চনের হাতে রাখি পড়িয়ে দিলেন বহরমপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস ওরফে সোনু গোয়ালা। পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাখি বন্ধন উৎসবের আয়োজন করেছিল তৃণমূল। সেই কর্মসূচি চলাকালীন স্বর্ণময়ী বিএসএনএল মোড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিধায়ক। তাঁকে দেখতে পেয়ে ছুটে এসে তাঁর হাতে রাখি পড়িয়ে দেন ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতারা। বিজেপি বিধায়ককে জড়িয়েও ধরেন তৃণমূল নেতাদের কেউ কেউ।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একইসঙ্গে সেদিনের উৎসব ছিল হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের বার্তাও। এক এসআইআর (Special Intensive Revision (SIR)) নিয়ে নিত্যদিন বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে দাবি পাল্টা দাবিতে সরগরম সর্বত্র। সেই বিতর্কে হাওয়া দিয়েছে বাঙলা ভাষা। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে সরকার প্রদত্ত সচিত্র পরিচয় পত্র দেখানো সত্বেও ভিন রাজ্যে পুলিশের হাতে নাকাল হতে হচ্ছে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের। তার প্রতিবাদ পাল্টা প্রতিবাদে নেমে বাংলা ভাষাকেই নেই করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। বিতর্ক তা ঘি ঢেলেছে। এই হাওয়ায় বিজেপি’র হাতে তৃণমূলের রাখি পড়ানো চোখ টেনেছে বহরমপুর পুরবাসীর।

যদিও বাইশ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পর্যবেক্ষক তথা পুরকর্মী অমৃতা গোস্বামী বিষয়টিকে তৃণমূল ও বিজেপি হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি বলেন, ” আজ রাখি পূর্ণিমা। সেই উপলক্ষে পথচলতি মানুষজনকে রাখি পড়াতে একটি কর্মসূচি চলছিল আমাদের। সেইসময় বিধায়ক ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা সৌজন্যতা বসত তাঁর হাতে রাখি পড়িয়েছি। সেই সময় আমাদের উভয়ের হাতে বা কাঁধে নিজেদের দলীয় পতাকা ছিল না। এরমধ্যে রাজনীতি খোঁজা অমূলক।” বিধায়ক সুব্রতও বলেন, ” ঘটনাটি কাকতালীয়। ওখানে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের অনেককেই আমি আমার রাজনীতি যোগের আগে থেকে চিনি। তাছাড়া আজ একটা শুভদিন। সৌভাতৃত্ব ও ঐক্যের দিন। এরমধ্যে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।”

কলকাতায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর হাতে তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের রাখি পড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের কেউ কেউ বলেন “সৌজন্যতা তৃণমূলের জন্মগত স্বভাব। যা অন্য দলের নেই।” ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক সিপিএম সমর্থক যা শুনে বলেন ” দুই দলের সেটিংস কী আর আমরা এমনি বলি?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights