
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা রানাঘাটে। সেই সভায় যোগ দিতে সমর্থকদের কোনও অসুবিধা যাতে না হয় তার জন্য আজ শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। কিন্তু মুর্শিদাবাদের ললাটে লেখা ছিল দুঃসংবাদ। মুর্শিদাবাদ থেকে মোদির সভায় যোগ দিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণনগর রানাঘাট শাখার তাহেরপুর থেকে বাদকুল্লা স্টেশনের মাঝখানে। ঘটনাস্থলেই রামপ্রসাদ ঘোষ (৭৪), মুক্তিপদ সুত্রধর (৫৫), গোপিনাথ দাস (৩৫)-এর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন ভৈরব ঘোষ (৪৭)। পুলিশের দাবি, সকালে রেললাইনের ধারে প্রাতঃকৃত্য করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় তাঁদের মৃত্যু হয়। প্রত্যেকের বাড়ি মুর্শিদাবাদের বড়ঞায়। আহত আরও একজন বিকাশ ঘোষের বাড়ি সাগরদিঘি থানায়। তিনি কৃষ্ণনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নরেন্দ্র মোদির সভায় যোগ দিতে প্রতিবেশি জেলা থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা সভামুখি সকাল থেকেই। মুর্শিদাবাদ থেকেও কর্মী সমর্থকরা ট্রেনে, বাসে করে রওনা দিয়েছেন সভার উদ্দেশ্যে। কিন্তু মুর্শিদাবাদের ভাবতা, বেলডাঙা, রেজিনগর এলাকায় রাস্তার ওপর কোথাও গার্ড রেল টেনে, কোথাও পুলিশ নিজের গাড়ি রাস্তার ওপর রেখে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেছে। বিজেপি’র এই অভিযোগে সাত সকালেই সরগরম ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক।
বিজেপি’র বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি মলয় মহাজনের দাবি, ” জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সমর্থকরা সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন। কিন্তু সড়ক পথে পুলিশ জটিলতার সৃষ্টি করে রেখেছে, যাতে আমাদের দলের কর্মী সমর্থকরা সময়ে সভাস্থলে না পৌঁছতে পারেন ।”
তাঁর আরও অভিযোগ, ” জায়গায় জায়গায় পুলিশ নিজের জিপ আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে রেখে চলে গিয়েছে। কোথাও গাড়ির চালক আছে। কোথাও নেই। আমার গাড়ির চালক একবার সরিয়ে দিয়েছে পুলিশের গাড়ি।” যে পুলিশ কর্মী বা সিভিক ভলান্টিয়াররা রাস্তায় ডিউটি করছেন, তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলে বলছেন ঊর্ধতন কতৃপক্ষ জানে, দাবি মলয়ের। তিনি থানায় ফোন করেছেন। তবুও দীর্ঘক্ষণ পুলিশ পথ আটকে রেখে সভা বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।
উত্তরবঙ্গের সঙ্গে মধ্যবঙ্গকে জুড়ে দিয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। প্রধানমন্ত্রীর সভার উদ্দেশ্যে উত্তরবঙ্গের সব জেলা থেকে এই সড়ক পথে কর্মী সমর্থকরা যাবেন রানাঘাটে। তাই যানজট ঠেকাতে পুলিশ রাস্তায় গার্ডরেল বসিয়েছে একদম নদিয়া পর্যন্ত। মুর্শিদাবাদের ট্রাফিক পুলিশের দাবি, এইভাবেই যে কোনও উৎসবে, সভায় রাস্তায় যানজট ঠেকাতে পুলিশ উদ্যোগী হয়।
আজকেও সেই নিয়মেই রাস্তা ব্লক করে ধীরে ধীরে ছাড়া হয় । আজকেও তা হয়েছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তার নির্দেশেই। সকাল ছ’টা থেকে রাস্তায় ভিড় সামলাতে নেমেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। বেলায় ভিড় বাড়লে একে একে বহরমপুর, নবগ্রামে একইভাবে পথ আটকে জাতীয় সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে দাবি ওই কর্তার।
প্রসঙ্গত,