যাঁর জীবনটাই লড়াইয়ের, তাঁকে হারের ভয় দেখাবে কে ?

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ যাঁর জীবনটাই লড়াইয়ের, তাঁকে হারের ভয় দেখাবে কে? ভারতবর্ষের রাজনীতির উঠোন তাঁকে এক নামে চেনে। তিনি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। গুঞ্জনে পড়ল সিলমোহর। তিনি এবার বহরমপুর বিধানসভার কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী। ঝিমিয়ে পড়া ভোটের হাওয়ায় বিকেলে সেই সংবাদ পাঠালেন রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধীরা।

তাঁর কাছে এও যেন এক বৃত্ত পূরণ। সংসদীয় রাজনীতিতে নাম লেখাতে নবগ্রাম বিধানসভায় অধীর প্রার্থী হয়েছিলেন প্রথমবার। তাঁকে সেবার আটকে দিয়েছিলেন তৎকালীন বাম নেতারা। সালটা ১৯৯১। রাজীব গান্ধী তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেবার তাঁকে আটকানো গেলেও ঠেকানো যায়নি তাঁর জনপ্রতিনিধি হওয়া।

১৯৯৬ সালে ফের সেই নবগ্রাম আসন থেকেই জিতে বিধানসভায় গিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তখন জ্যোতি বসু। যদিও সেই মেয়াদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৯৯ সালে বহরমপুর থেকে জিতে এবার সাংসদ। আর সেই শুরু। পরপর পাঁচবার। ২০২৪ এর লোকসভা আসনে লড়াইতে নেমে টের পেলেন ধর্মীয় মেরুকরণে ভাগ হয়ে গিয়েছে তার গড়। ভূমিপুত্র হারলেন ভিনদেশীর কাছে। তাঁর জয়ের রথ থামালেন বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। ময়না তদন্ত করলেন হারের। যে যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছিল তাঁর দিল্লিবাসের কারণে, সেই সুতো জুড়লেন মাঠে ময়দানে সভা সমিতি করে।

যদিও কংগ্রেস আজ আর অধীরের একার হাতে নেই। জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে উঠেছে ঘরের মধ্যে ঘর। কাছের মানুষ দূরে চলে গিয়েছেন। বিশ্বাসভঙ্গ হয়েছে। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন জনসংযোগে। সত্তর বছর বয়সী অধীর পরিশ্রম করেছেন হারানো জনপ্রিয়তা উদ্ধারের জন্য। হারলেও অস্তিত্বের সংকট আসেনি তাঁর জীবনে। সেই ভরসায় ভর করে ২০২৬ এ বিধায়কের ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। কেউ কেউ বলছেন ” দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত “।

২০২৪ এ তাঁর হারের সংবাদে চোখের জল ফেলেছিল বহরমপুর। ফের তাঁদের অভিভাবক হওয়ার দৌড়ে নাম লেখালেন অধীর। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই হাতে তৈরি সন্তানসম নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় আর সুব্রত ওরফে কাঞ্চন মৈত্র। প্রথমজন তৃণমূল আর দ্বিতীয় জন বিজেপির। এক অর্থে এবার গুরু-শিষ্যের লড়াই। গুরু ঘরে শেখা বিদ্যা প্রয়োগে আজ সিদ্ধহস্ত দুজনেই। অভিজ্ঞও দুই জনপ্রতিনিধি নাড়ুগোপাল ও কাঞ্চন। ভোট যুদ্ধে একে অপরকে এক ফোঁটা মাটি ছাড়তে নারাজ তাঁরা। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ইতিমধ্যেই সরগরম বহরমপুর। আর কে না জানে “প্রেমে আর যুদ্ধে সবই ন্যায্য”। অধীর পক্ষের পাল্টা দাবি, ” দাদার হারাবার কিছু নেই। এই বহরমপুরও তাঁর নতুন করে জয় করার নেই। তিনি তো বহরমপুরেরই অভিভাবক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights