ভোট চাইতে দুয়ারে নাড়ু, তাঁর জন্য দেওয়াল লিখলেন ভীষ্ম

Social Share
দলীয় প্রার্থীর জন্য দেওয়াল লিখলেন ভীষ্ম, মানুষের দুয়ারে নাড়ুগোপাল (ডানদিকে)

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ দ্বিতীয়বার নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে বহরমপুর বিধানসভায় প্রার্থী করলেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বছর পাঁচেক আগেও তিনি এই বহরমপুরে প্রার্থী হয়েছিলেন ঘাসফুল প্রতীকেই। দ্বিতীয় হয়েছিলেন সেবারের ভোট যুদ্ধে। এবার পার্থক্য একটাই। নাড়ুগোপাল এখন বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান। রাস্তা থেকে আলো, জল থেকে নিকাশী ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ভার তাঁরই কাঁধে। এবার তাঁর সামনে সুযোগ প্রথম হওয়ার।

ঘোষণা হওয়া ইস্তক বহরমপুরের অলিতে গলিতে শুরু হয়েছে তাঁর নামে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নাম ঘোষণার পরেই তিনি ছুটে গিয়েছেন ভোটারদের কাছে। কারও কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন কর জোড়ে, কারও হাতে হাত মিলিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। ভোট যুদ্ধে নামার আগে দূরকে নিকট করার কৌশল নিয়েছেন নাড়ুগোপাল। সেই কৌশলেই সংবাদমাধ্যমে বহরমপুরবাসীর কাছে ভোট ভিক্ষা করেছেন দলের, তাঁর পুরসভার সব স্তরের কর্মীদের নিয়ে।

তাঁর হয়ে দেওয়াল লিখে ভোট চাইতে দেখা গেল কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের বহরমপুর সংগঠনের যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকারকেও। নাড়ুগোপালের জয়ের ব্যাপারে তিনি একশো ভাগ নিশ্চিত। তিনি বলেন, ” রাজ্যের মানুষ ঠিক করে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে। সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করতে এবার আর পিছিয়ে থাকবে না বহরমপুর। শাসকের পক্ষেই এবার সওয়াল করবেন বহরমপুরবাসী।”

তিনি তৃণমূল সরকারের সাফল্য বলতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ সরকারি প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, ” আগামী প্রজন্মের কাছে এই তৃণমূলই হচ্ছে সঠিক রাজনৈতিক দল। তাঁদের বলভরসার জায়গা।” যদিও গত পাঁচ বছরে পুরসভার চেয়ারম্যান ও বহরমপুর বিধানসভায় দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নাড়ুগোপাল দলের গোঁজ চিহ্নিত করে কৌশলে নিজের টিম তৈরি করেছেন। তাঁর হাতে রয়েছে ভোট মেশিনারি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রতিপক্ষদের পরাস্ত করতে যা তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন দলেরই একাংশ।

তবে ভীষ্মদেব যাই বলুন, তৃণমূল সূত্রেই জানা যায় নাড়ুগোপালের প্রার্থী পদ ঠেকাতে সক্রিয় ছিল দলের একটা অংশ। তাঁদেরই কেউ কেউ বলছেন ” বহরমপুর শহরে তৃণমূলের একাধিক মাথা। মাথায় ঠোক্কর লেগে ভোট অন্যের বাক্সে চলে গেলে মুশকিল। আগামী একমাস অন্তত সেদিকেই নজর রাখা জরুরি।” পাল্টা চালে ভীষ্মদেব বলেন “আমরা একটা বৃহত পরিবার। পরিবারের মধ্যে আনন্দ, দুঃখ, যন্ত্রণা সব থাকে। সারা বছর ধরে আমরা মানুষের কাছে আছি, মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে আছে তা প্রমাণ করার দিন। আজ সব ভুলে সবার এককাট্টা হওয়ার দিন।” যদিও বহরমপুর বরাবর হেভিওয়েট নির্বাচন কেন্দ্র। শাসকের পক্ষে নয় বরাবর বিরোধী আসনে বসতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেছে। কিন্তু ভীষ্মদেব একধাপ এগিয়ে বলছেন, ” গত বারের তুলনায় নাড়ুদা এবার অনেক বেশি ভোট পাবেন। মিলিয়ে নেবেন প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোটে তিনি জিতবেন। গতবারের ভুল মানুষ এবার করবেন না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights