ক্ষতের পরে শান্তি বাহিনী কেন ? নির্বিঘ্নে হবে ভোট ? প্রশ্নে জঙ্গীপুর

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ওয়াকফ সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে যে অশান্তির আগুনে দগ্ধ হয়েছিল উত্তর মুর্শিদাবাদের বিস্তৃর্ণ এলাকা, তার দাগ এখনও স্পষ্ট। তবুও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিল না জঙ্গীপুর প্রশাসন। অতীত বিস্মৃত নির্বাচন কমিশনও ? স্পর্শকাতর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কেন বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? রাম নবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের ঘটনার পর এই প্রশ্নই উঠছে মুর্শিদাবাদ জুড়ে।

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের উদ্দেশ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের মাথা থেকে পা পর্যন্ত বদলে দিয়েছে কমিশন। তবু কেন ঠেকানো গেল না হিংসার ঘটনা। যে ঘটনার জেরে ৪০ এর বেশি সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিং এ দিন বলেন, “ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ” ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সংঘর্ষ, দোকানে ভাঙচুর, আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট-সহ বিভিন্ন ধারায় মোট ছ’টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, সামাজিক মাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।”

সেই রিপোর্ট রাজ্য নির্বাচনি দফতরেও পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যাঁদের গ্রেফতার করেছে তাঁরা কীভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে তা অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি এখনও। থমথমে এলাকায় এখন ভারী বুটের যে শব্দ শোনা যাচ্ছে তা বুকে লাগছে বলে দাবি করছেন এলাকার আতঙ্কিত মানুষজন। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজনের দাবি, ” যা ঘটেছে তা পুলিশের সামনেই ঘটেছে । এখন এলাকায় টহল দিয়ে কী হবে ?”

দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদকে কেন্দ্র করে রঘুনাথগঞ্জ এক নম্বর ব্লকের ফুলতলা এলাকায় যে ঘটনা ঘটেছে তা পরিকল্পিত বলেই ধরে নিচ্ছেন অভিজ্ঞ পুলিশ মহলেরও একাংশ। অশান্তির আভাস পেতে কেন বারবার পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ব্যর্থ হচ্ছে? ভোটের হাওয়ায় সেই প্রশ্ন তুলে এলাকাবাসী ধন্দে ” নির্বিঘ্নে ভোট মিটবে তো ?”

যে এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে সেই এলাকা বিদায়ী বিধায়ক জাকির হোসেনের আওতাধীন। এলাকার সাংসদ খলিলুর রহমান। একটি সূত্রের দাবি, তৃণমূলের বর্তমান নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল দলের একটা বড় অংশের। যাঁরা মূলত হিন্দু । নির্বাচনে টিকিট পাওয়া নিয়ে যাঁরা জাকিরের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত। তাঁরা কি এই ভিড়ের মধ্যে মিশে ছিলেন? উঠছে প্রশ্ন? কেন বিধায়ক, সাংসদদের কাছে অশান্তির আগাম কোনও খবর ছিল না। এর আগের ঘটনাতেও ছিল না। তাঁদের জনসংযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।

যদিও বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ঘটনা ঘটার অন্তত এক ঘন্টা আগে জাকির হোসেনের ঘনিষ্ঠ মহলে “একটা কিছু ঘটতে পারে”, এমন আভাস ছিল। তবু কেন পুলিশকে সতর্ক করা হয়নি। বিজেপি আর তৃণমূল পরস্পরের কাছে ঘটনার জন্য জবাবদিহি চাইলেও জেলা সিপিএম, কংগ্রেস অবশ্য ঘটনার দায় বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের ঘাড়ে চাপিয়েছে। কংগ্রেস নেতা হাসানুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, ” কেন বারবার এই ঘটনা ঘটছে জঙ্গিপুরে ? গেরুয়া পোশাকে মারমুখী যাঁরা তাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে মিছিল কেন ছিল? পুলিশ কেন আটকালো না?” তবে তিনি বলেন, ” যাঁরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তাঁরা না হিন্দু, না মুসলমান। তাঁরা শুধুই দুষ্কৃতি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights