
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ রাজ্যের বহু জায়গায় কংগ্রেস কর্মীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের চেয়ে না পেয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সে বিধানভবনেই হোক কিংবা সাগরদিঘিতে, সর্বত্র কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীদের বিক্ষোভ উঠে আসে সংবাদের শিরোনামে। সেই ক্ষোভকে কার্যত ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। বুধবার বেশি রাতে মুর্শিদাবাদের তিনটি আসন সহ রাজ্যের অঘোষিত দশটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল এআইসিসি। সংবাদ হাজারদুয়ারির খবরে সিলমোহরও পড়ল। সাগরদিঘির প্রার্থী হলেন মনোজ চক্রবর্তী।
দলের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীর নাম দেখে নিজের ফেসবুকের পাতায় ভূমিপুত্র হাসানুজ্জামান বাপ্পা লিখলেন, “ক্রিমিনাল অ্যান্ড কমিউনাল মানি ম্যাটার।” তাঁর পোস্টে অনেকেই তাঁকে সমর্থন করেছেন। জনৈক ফারাজ লিখেছেন “এই জন্যেই কি কংগ্রেস ৪৫ বছরে ক্ষমতায় ফিরতে পারছে না? যোগ্যতা হেরে যাচ্ছে টাকার খেলায় ? ” ফরাক্কা আসনের দাবিদার আসিফ ইকবালও তাঁর ফেসবুকের পাতায় লিখেছেন, ” মানি ওভার মেরিট। কংগ্র্যাচুলেশন্স…” আসিফের জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন মাহাতাব শেখ।

তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার মৃত্যুর পর সাগরদিঘিতে উপনির্বাচনে বাইরন বিশ্বাস জিতেছিলেন বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হয়ে। সেই বাইরন পরে তৃণমূলে নাম লেখান। এবার সেখানে ভূমিপুত্র হাসানুজ্জামান বাপ্পাকে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু মনোজ ঘনিষ্ঠদের দাবি, ” বাইরনের বিরুদ্ধে আইরন ম্যান মনোজকেই মানুষ চাইছেন। তাই দল তাঁকে প্রার্থী করেছে।”

সূত্রের দাবি, একদা অধীর ঘনিষ্ঠ বাপ্পার সঙ্গে জেলা কংগ্রেসের দূরত্ব তৈরি হয়। নিজের মতো করে উত্তর মুর্শিদাবাদে পৃথক জেলার দাবি সহ স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যূতে কংগ্রেসের পতাকা নিয়েই আন্দোলনে নামেন বাপ্পা। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অন্য দলে নাম লেখানোর প্রস্তাব থাকলেও তিনি ‘হাত’ ছেড়ে যান নি কোথাও। তাঁর নিকটজনেরা অধীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দাবি করেন, ” অধীর চৌধুরীর সঙ্গে দূরত্বের কারণেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। তিনি চান যে নেতা তাঁর কথায় উঠবে বসবে তাঁরাই টিকিট পাবেন।” অথচ বাপ্পা বলেন, ” অধীর দা ডাকলেই তাঁর হয়ে প্রচারে নেমে পড়বো। আমার কোনো আক্ষেপ নেই।”
তবে সাগরদিঘি, ফরাক্কা বা বেলডাঙা নয়। জেলার একাংশ কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, ” মুর্শিদাবাদ, রেজিনগর, বেলডাঙা সহ বেশ কয়েকটি আসনে কংগ্রেস বিরোধীদের সুবিধা করে দিয়েছে। আর তা হয়েছে অধীর চৌধুরীর অঙ্গুলি হেলনে।” তাঁরা ক্ষোভ জানিয়ে এও বলেন, ” শত প্রলোভনেও দল ছাড়ি নি। ছাড়বোও না। আবার অধীর চৌধুরীকেও ছাড়ব না।” অধীর ঘনিষ্ঠদের পাল্টা দাবি, “একাধিক জায়গায় তৃণমূল আমাদের দলের মধ্যে ভাঙন ধরাতে ধুরন্ধর পুষেছে। দাদা তাদের ধরে ফেলেছে।”