
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ আজ মুর্শিদাবাদে ভোটের প্রচারে আসছেন রাহুল গান্ধী। শমসেরগঞ্জের কৃষি মান্ডির মাঠে তাঁর সভা হবে। ২০২৪ সালে বহরমপুরে এসেছিলেন রাহুল। অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর রোড শো’য়ের কথা এখনও লোকমুখে ঘোরে। লোকসভা নির্বাচন তখনও ঘোষণা হয়নি। এবার উত্তর মুর্শিদাবাদে একেবারে ভোটের প্রচারে আসছে তিনি। তাঁর সভা ঘিরে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।
হাল আমলে শমসেরগঞ্জ সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছে জাফরাবাদের সৌজন্যে। ওয়াকফ সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার বলি হয়েছিলেন হরগোবিন্দ ও চন্দন দাস। সেই ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তারমধ্যেই এসে গেল বিধানসভা নির্বাচন। আর সেখানে ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে সেই দগদগে ঘা, এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের।
শমসেরগঞ্জ বিধানসভায় এবার লড়াই মূলত কংগ্রেস আর তৃণমূলের মধ্যে। জাফরাবাদের ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরব থাকলেও এই কেন্দ্রে তাদের ভোট নেই বললেই চলে। কিন্তু দাস পরিবারের ঘটনার প্রভাব জঙ্গিপুরের মতো হিন্দু এলাকায় পড়বে বলে বিশ্বাস এলাকার নেতাদের। আর তাই এই উত্তর মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার আসছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। আর তিনি আসছেন সংখ্যালঘু অধূষ্যিত শমসেরগঞ্জেই। কংগ্রেসের অন্দরে খবর, মালদহ লোকসভার অন্তর্গত হলেও মুর্শিদাবাদের এই বিধানসভায় এবার কংগ্রেসের ফল ভাল হবে। অনেকের ধারণা শমসেরগঞ্জ জিতে যেতেও পারে রাহুলের দল।
কেন জিতবে কংগ্রেস বলে দাবি করছেন নেতারা ? তাঁদের দাবি, শমসেরগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ককে সরিয়ে অন্য জায়গায় টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। সেই সিদ্ধান্তই বলে দেয় ওখানে ওরা মানুষের কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছে। আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এলাকাবাসী কংগ্রেসের ওপরেই ভরসা রাখছেন। পরিবর্তনের জমানায় ২০১১ সালে এই আসন থেকে সিপিএমের তোয়াব আলী জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। তারপরের দু’বার বিদায়ী বিধায়ক আমিরুল ইসলামের কাঁধে ভর দিয়ে এই আসন জিতে নেয় কংগ্রেস। আমিরুল এবার ফরাক্কা বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী। ফলে এই আসন কংগ্রেস ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ” আমরা মানুষের রায় পেয়েই গিয়েছি বলতে পারেন। মানুষ দেখেছে কংগ্রেসের জমানা আর তৃণমূলের জমানা। মানুষ মুখিয়ে আছে ২৩ তারিখ তাঁদের মত ব্যলট বক্সে প্রকাশ করতে।” তিনি আরও বলেন, ” রাহুল গান্ধী এখানে জনসভা করতে আসছেন। আর তার প্রভাব শুধু একটি আসনেই নয়, জেলার ২২টি বিধানসভাতেই পড়বে।” গত বিধানসভা নির্বাচনে আমিরুল পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। কংগ্রেসের জাইদূর রহমান ৭০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। তৃণমূলের ‘দূর্বলতা’র সূযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের পক্ষে তা টানতে প্রচারে খামতি রাখতে চাইছেন কংগ্রেস প্রার্থী নাজমে আলম।
তবে মুর্শিদাবাদ জেলার বাইশটি আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী দেওয়াকে কেন্দ্র করে দল বিভক্ত। বিক্ষুব্ধদের মধ্যে আছেন জঙ্গিপুরের কংগ্রেস নেতা হাসানুজ্জামান বাপ্পাও। জেলায় অধীর চৌধুরী গোষ্ঠীরা তাঁদের কোণঠাসা করে রেখেছেন বলেও দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠদের। যদিও সেই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীও কংগ্রেসের প্রার্থীর জয় নিয়ে নিশ্চিত। এদিন বাপ্পাও বলেন, ” রাহুল গান্ধীকে নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্দিপনা রয়েছে। শুধু কর্মীদের কেন এলাকাবাসীও উচ্ছ্বসিত। আর তার প্রভাব পড়বেই ভোটের বাক্সে।”