রাহুল গান্ধীর মুখে নেই স্থানীয় সমস্যার কথা, সভা শেষে হতাশ ধুলিয়ান

Social Share
রাহুল গান্ধীর সভায় অধীর চৌধুরী, মনোজ চক্রবর্তীরা

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ শেষ চৈত্রের ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ভিড় করেছিলেন ওঁরা। নদী ভাঙন, পরিযায়ীদের যন্ত্রণার কথা, বিড়ি শ্রমিকদের কথা, ওয়াকফ বিল নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘দ্বিচারিতা’র কথা, সর্বোপরি ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম মুছে গিয়েছে তাঁরা লোকসভার বিরোধী দলনেতার মুখে শুনতে চেয়েছিলেন পরিবর্তনের কথা। আশার কথা। কিন্তু কোথায় কী? রাহুল গান্ধী তাঁর আঠারো মিনিটের ভাষণে যা বললেন তা তাঁর ফেসবুক পেইজ ফলো করলেই শুনতে পাওয়া যায়। এই কথা ফিসফিস করতে করতে সভা ছাড়লেন ধুলিয়ানবাসী। তাঁরা বিভ্রান্ত এই ভেবে, ” রাহুল এলেন ২০২৯ এর ভোট প্রচারে না কি ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটের প্রচারে?”

চলতি ভোটে সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলেছে এসআইআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী। নির্বাচনী ভোট প্রচার যখন মধ্যগগনে সেই সময় সংখ্যালঘু অধ্যূষিত মুর্শিদাবাদে সভা করতে এলেন রাহুল। এই মুর্শিদাবাদেই সব থেকে বেশি বৈধ ভোটারের নাম মুছে গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। শমসেরগঞ্জে সংখ্যাটা ৭৫ হাজারের আশেপাশে। অথচ তাঁর মুখে এসআইআর নিয়ে একটি শব্দও শুনতে পেলেন না ধুলিয়ানবাসী। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল এই একটি ইস্যূতে বিজেপিকে নিশানা করলেও রাহুল হাঁটলেন অন্য পথে। এপস্টেইন ইস্যূতে বিঁধলেন নরেন্দ্র মোদিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেলেন রাজীব পুত্র।

অথচ নদী ভাঙন নিয়ে তাঁর দলের অন্যতম সৈনিক বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বিধানসভার প্রার্থী অধীর চৌধুরী ছুটে যান ভিটে হারানো মানুষের কাছে। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে মমতা সরকারের সমালোচনা করে বাধ্য করেছেন বাজেটে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে। এদিন সভায় ছিলেন তিনিও। গত উপনির্বাচনে সাগরদিঘির মানুষ বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী করে বাইরন বিশ্বাসকে যে কটি স্থানীয় ইস্যূতে জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিড়ি শ্রমিকদের কথা। বাইরন দল বদল করায় সেই দাবি এখন ঠান্ডা ঘরে। ভোট আসে ভোট যায়। প্রতিশ্রুতির খাতায় লেখা থাকে বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা, আক্ষেপ করছিলেন বিড়ি শ্রমিক বেলাল শেখরা।

এই শমসেরগঞ্জ গত বছর নয়া ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়েছিল। সেই সময় থেকেই তৃণমূলের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন এলাকাবাসী। কংগ্রেস একটা বছর সময় পেয়েছিল ঘর গোছানোর। সেভাবে প্রস্তুত না হলেও মানুষ এবার কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষে রায় দিতে মুখিয়ে আছেন। সে কথাও রাহুলের কানে তোলার কথা ভাবতে পারেননি জেলা নেতারা। অথচ দলের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশী স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নোট নিয়েছিলেন বলে দাবি সূত্রের।

এদিন রাহুলের সভা নিয়ে সমালোচনা করেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, ” বিজেপির ভাষা রাহুলের মুখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে বলে বলে হারাচ্ছেন। সেখানে ভোট কাটতে কেন আসছেন রাহুল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights