
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সর্বেসর্বা প্রতাপ নায়েককে সমতল থেকে পাহাড়ে ঠেলে দিল রাজ্যের নয়া বিজেপি সরকার। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনের দিন শপথ নিয়েছেন রাজ্যের নবমতম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাজ শুরুর আগে দফতর গোছাতে সেই দিন থেকে একাধিক আমলাদের রদবদল শুরু হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বলতে প্রতাপ নায়েকের বদলির নির্দেশ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের একজন আপার ডিভিসন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত এই সরকারি কর্মী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক। তাঁর অঙ্গুলী হেলনেই ঠিক এইভাবেই কর্মীদের কেউ যেতেন সমতলে কেউ পাহাড়ে, দাবি সূত্রের।
শাসকদল তৃণমূল পরিচালিত এই সংগঠনের মাথা হওয়ায় তাঁর ভয়ে ভীত থাকতেন সাধারণ কর্মী থেকে আমলারা পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই এদিন তাঁর ‘ডানা ছাঁটা’র নির্দেশে রাজ্য সরকারি দফতরে যেন ভয় আউট, ভরসা ইনের বার্তা। নবান্ন থেকে তাঁকে দার্জিলিং জেলার পুল বাজার ব্লকের বিডিও অফিসের একজন করণীক হিসেবে যোগদানের কথা সরকারি নির্দেশ জানানো হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের একাংশ রাজ্য সরকারের বিরোধীতা করছিলেন দীর্ঘদিন থেকে। একদিকে দিনের পর বকেয়া থাকা ডিএ তার ওপরে কর্মী নিয়োগ না থাকায় দশের লাঠি একের বোঝায় পরিণত হয়েছিল তাঁদের কাছে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপেও সরকারের ওপরে ক্ষুব্ধ ছিলেন কর্মীরা। বিশেষ করে ২০২১ সালের পর থেকে। সে কথা অজানা ছিল না মমতারও। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে কর্মীদের সম্মেলনে একপ্রকার হুমকিও দিয়ে গিয়েছিলেন কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকারও। মঞ্চে সেদিন বসেছিলেন প্রতাপ। সরকারের পক্ষে মত না থাকলে কর্মীদের এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় পাঠানোর মতো প্রচ্ছন্ন হুমকি তাঁর গলাতেও ছিল। এবারও ভোটের অনেক আগে থেকেই কর্মী সম্মেলনের নামে শুরু হয়েছিল ভোটের প্রচারের নামে ভোট কুড়নোর বার্তা। এদিন তাঁর বদলির নির্দেশ কর্মীদের একাংশের দাবি ” ভয় আউট, ভরসা ইন।” যা আদতে বিজেপির শ্লোগান।
ফেডারেশনের মুর্শিদাবাদ জেলার নেতা দেবাশিস সেনগুপ্ত অবশ্য বলেন, ” ২০১১ সালের পর থেকে মুর্শিদাবাদের কোনও সরকারি কর্মীর ক্ষেত্রে এইরকম কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” তবে দেবাশিস বাবু এমন দাবি করলেও সরকারি কর্মীদের একাংশ সে কথায় গুরুত্ব দিতে নারাজ। আর তাই রঙ বদলের হাওয়ায় তাঁদের গায়ে লেগেছে গেরুয়া দাগ। নির্বাচনের ফল বেরনোর দিন চারেকের মাথায় বহরমপুর কালেক্টরেট ক্লাবে তাঁরা সম্বর্ধনা দিয়েছেন দ্বিতীয়বারের বিধায়ক বিজেপি’র সুব্রত ওরফ কাঞ্চন মৈত্রকে। সেই সঙ্গে রাজ্যে পালাবদলের আনন্দে সরকারি কর্মীদের কালেক্টরেট ক্লাবে তাঁরা নিজের মধ্যে সেদিন গেরুয়া আবিরও মাখামাখি করেন। যা আদতে ছিল দলবদলেরই ইঙ্গিত। দেবাশিস বাবু হাজির না থাকলেও সেখানে ছিলেন ফেডারেশনের নেতারা। ছিলেন কালেক্টরেট ক্লাবের পদাধিকারিরাও। যারা সেখান থেকে জেলা প্রশাসনিক ভবনেও গিয়েছিলেন জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে। কর্মীদের মধ্যে ভয় ভাঙার এই ছবি নিয়ে দেবাশিস বলেন, ” দেখা যাক কী হয়?”