
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ যাত্রীদের ধারাবাহিক আন্দোলন শেষে এল জয়। কাল বাদ পড়শু থেকে লালগোলা শিয়ালদহ শাখায় চলবে শৌচালয় যুক্ত একাধিক ট্রেন। মঙ্গলবার একটি নোটিশে সে কথা জানিয়েছে পূর্ব রেল। আর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন লালগোলা রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রাজেন্দ্র তাতের। তিনি বলেন, ” আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন অবশেষে সফল হল।”
সাধারণ মানুষের লাইফ লাইন ট্রেন। এই ট্রেনে চেপেই দৈনিক কত অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে পৌঁছে যেতে পারেন তুলনামূলক কম খরচে। সেই ট্রেনেই ছিল না শৌচালয়। প্রয়োজনীয় রেকের অভাবে এই শাখায় ইএমইউ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেল। লালগোলা থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত প্রায় ২২৭ কিলোমিটার রাস্তা শৌচাগারহীন ট্রেনে যাতায়াত করতে হত যাত্রীদের। যার ফলে মানুষের কাছে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল রেল যাত্রা। রেলের এই অমানবিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নামেন যাত্রীরা। গড়ে ওঠে যাত্রীদের সংগঠন। কখনও লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে, কখনও জেলার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অনুরোধ জানালেও সেই দাবিতে কর্ণপাত করেননি পূর্ব রেলের কর্তারা। একসময় রেল চালক থেকে প্যাসেঞ্জার সকলকে ডায়াপার উপহার দিয়েও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করা হয়। কিন্তু তাতেও নড়েননি রেল কর্তারা। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা অনশন আন্দোলনেরও ডাক দিয়েছিলেন। পরিকল্পনার স্তরে ছিল রেল রোকো কর্মসূচিও।
যদিও সেই পথে যাওয়ার আগেই রেল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অবশেষে শৌচালয় যুক্ত মেমু রেক চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৪ মে থেকে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় নটি ইএমইউ এর সময়ে চলবে মেমু রেক। ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সুস্থ পরিষেবা দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র থেকে জেলার একাধিক জনপ্রতিনিধি।
তবে লালগোলা শাখায় প্রয়োজনের তুলনায় কম ট্রেন চলাচল করে। এদিন সেই কথাও জানিয়েছেন রাজেন্দ্র। তিনি বলেন, ” আমরা চাই ধনধান্য এক্সপ্রেসও প্রতিদিন চলুক। এই লাইনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হোক।”