কালবৈশাখীর দাপট মুর্শিদাবাদে, গাছ ভাঙল এডিএমের বাংলোতেও

Social Share
ভেঙেছে বিদ্যুতের খুঁটি বহরমপুরে

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে সোমবার বিকেলে হুলুস্থুল কান্ড বাঁধিয়ে দিল কালবৈশাখী ঝড়। বহরমপুর থেকে জিয়াগঞ্জ, সর্বত্র ভাঙল গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, ছিঁড়ল তার। সাময়িক থমকে গেল জনজীবন, ব্যহত হল বিদ্যুৎ পরিষেবা।

দিন কয়েক ধরে অস্বস্তিকর গরমে নাজেহাল হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদ। সোমবার বিকেল তিনটে নাগাদ কালবৈশাখী ঝড় ওঠে। সঙ্গে বৃষ্টিও। যদিও ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল না হাওয়া অফিসের। সেই ঝড়ের দাপটে বহরমপুর ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক জায়গায় উপড়ে যায় বিদ্যুতের খুঁটি। তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ে বড় বড় গাছ। বহরমপুরে স্বর্ণময়ী বাজার এলাকায়, ওয়াইএম এ মাঠ সংলগ্ন সরকারি আবাসনের সামনে রাস্তার ওপর গাছ ভেঙে পড়লে যান চলাচল ব্যহত হয়।

গাছের ডাল ভেঙে ঝুলছে রাস্তার ওপর

ওই রাস্তাতেই তিনটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ে গেলে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গাছ ভেঙে পড়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক ( জেনারেল) এর বাংলোতেও। তাছাড়া জেলাশাসকের বাংলোর সামনে, বহরমপুর কলেজের সামনে কোথাও গাছের ডাল ভেঙে, কোথাও গাছ উপরে যায় রাস্তার ওপরে। পরে বহরমপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা এসে দক্ষতার সঙ্গে কোথাও গাছের ডাল ছেঁটে, কোথাও রাস্তা থেকে গাছের ডাল সরিয়ে রাস্তা যান চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। বহরমপুর ফায়ার স্টেশনের ওসি মলয় মজুমদার বলেন, “শহরে প্রায় আট থেকে দশটি গাছ ঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়েছে। সেগুলো সরানো হয়েছে রাস্তা থেকে।”

খড়গ্রাম স্টেশনে (বাম দিকে), ডানদিকে ফায়ার ব্রিগ্রেডের কর্মীরা গাছের ডাল কাটছেন

তবে এই ঝড়ে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কান্দি মহকুমা, দাবি বিদ্যুৎ দফতরের। ওই এলাকায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও গাছের ডাল ভেঙে যাওয়া থেকে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায় কালবৈশাখীর দাপটে। ধেয়ে আসা ঝড়ের বেগে খড়গ্রাম স্টেশনের জলের ট্যাঙ্ক উড়ে যায় । ডব্লিউবিএসইডিসিএলের আঞ্চলিক প্রধান কৌশিক মন্ডল বলেন, ” সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বহরমপুর ও কান্দি মহকুমা। তারপরে লালবাগ ও ডোমকলের কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দুশোর ওপর বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙেছে। কান্দিতে যা খবর পেয়েছি তা প্রায় ১৩০-৩২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙেছে। বহরমপুরেও গাছ পড়ে প্রায় ৬০-৬৫টি খুঁটি ভেঙেছে।” খুঁটি ভেঙে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। রাত ন’টা নাগাদ স্বাভাবিক হয় বিদ্যুৎ পরিষেবা। এই খবর প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত জেলার প্রায় কুড়ি শতাংশ এলাকা এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা যায়।

চাষেরও তেমন খুব একটা ক্ষতি হয়নি। মাঠে মাঠে বোরো ধান গোলায় উঠে গিয়েছে প্রায়। পাটও হাঁটু থেকে কোমড় পর্যন্ত হয়েছে, এই বৃষ্টি চাপান দিতে জানান কৃষি আধিকারিকরা। এই ঝড়ের মাঠে থাকা তিলেরও তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানান তাঁরা। মুর্শিদাবাদের আম বাগানে আম ঝরে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আম চাষিরা। তবে কমল না গরম, যদিও আকাশ এখনও মেঘলা। রাতে ফের বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির আভাস মিলেছে হাওয়া অফিসের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights