
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ বহরমপুর পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিকের ঘরে বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের অনুগামীরা রাষ্ট্রপতির ছবির সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। এখনও তিরিশ দিনও পেরোয়নি পালাবদল। তারমধ্যেই পুরসভায় বদলের ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি নেতারা। খাতায় কলমে এখনও বহরমপুর পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড। তাহলে কি এভাবে ভিন দলের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ঝোলানো যায়?
শহরাঞ্চলের স্থানীয় সরকার পুরসভা। রাজ্যে বহরমপুরের মতো আরও ১২১টি পুরসভা আছে। আর কর্পোরেশন আছে সাতটি। আইন অনুযায়ী এই পুরসভাগুলি স্ব-শাসিত। পুরসভার চেয়ারম্যানই শেষ কথা। তিনি রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে জনস্বার্থে সংযোগ স্থাপন করেন। সেই পুরসভার অন্দরে প্রায় বাধাহীন ঢুকে গেলেন বিজেপি’ র “দামাল” কর্মীরা। শুধু ঢুকলেন না, একেবারে কার্যনিবাহী আধিকারিকের ঘরে ঢুকে তিনটি ছবির সঙ্গে তাঁরা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ভারতমাতারও ছবি। এতদিন সেখানে ঝুলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি।
দাদা-দিদির ছবি সরে যাওয়ার পরেও তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে অকল্পনীয়ভাবে চুপ। মাস খানেক আগেও তৃণমূলের এমন ঘাসফুল চরিত্র দেখেনি বহরমপুর। বিধানসভা নির্বাচনের সময় নেতাদের আগুন ঝরানো বক্তব্যে মানুষ ভেবেছিল পরিবর্তনের ঝড় বইবে। কিন্তু এভাবে তাঁর দল ঝরে পড়বে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভাবেননি স্বপ্নে। সেই তৃণমূলের হয়ে কথা বলতে বা প্রতিবাদ করতে এদিন স্বাভাবিক ভাবেই এগিয়ে আসেননি কেউ।
শহরের এক প্রবীণ প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলর বলেন, ” এটা করা যায় না, যদি না চেয়ারম্যান অনুমতি দেন।” বিধায়ক অবশ্য সেই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ” বহরমপুর পুরসভা কি আমার দেশের, আমার রাজ্যের বাইরের সংস্থা ? কেন্দ্রের অর্থে পুরসভাগুলি যদি নাগরিক পরিষেবা দিতে পারে, তাহলে তাঁর ছবি দেওয়ালে ঝোলানো অপরাধ?” পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় ফোনও ধরেন নি, মেসেজের উত্তরও দেন নি। সুব্রত গত নির্বাচনেও বহরমপুরের বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু তাঁকে এবারের মতো আক্রমণাত্মক দেখে নি পুরবাসী? তবে কি এবার পুরসভার নয়া উপদেষ্টা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিলেন বিধায়কই? সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিধায়ক বলেন, ” আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শাসকদলের পদাধিকারিদের নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরাও তাই করছি। ফলে এখানে ক্ষমতা দেখানো বা বোঝানো নয়। সবাইকে নিয়েই চলতে হবে উন্নয়নের স্বার্থে।”
রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি দফতরে ফিরিয়ে এনেছেন অশোক স্তম্ভ। বিশ্ব বাংলার লোগো সরে গিয়ে জেলায় জেলায় ফিরেছে সেই ছবি। ব্যতিক্রম নয় মুর্শিদাবাদ ও। কিন্তু পুরসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ঝোলানো হলেও বাইরে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে এখনও জ্বলজ্বল করছে বিশ্ব বাংলার লোগো। সুব্রত বলেন, ” সব জায়গাতেই বিশ্ববাংলার লোগো সরিয়ে অশোক স্তম্ভ বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছি। আমিও জেলাশাসককে বলেছি। ওই লোগোও সরে যাবে।” কংগ্রেসের জেলাসভাপতি তথা শহরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন কাউন্সিলর মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ” প্রয়াত মুকুল রায়ের কথা স্মরণ করুন। যাহাই তৃণমূল তাহাই বিজেপি।” এক পুরকর্মী বলেন, ” এ আবার নতুন কী? আজ নয় কাল তো পুরসভা বিজেপি’র হবে তাই ওরা আগাম ছবি ঝুলিয়ে জায়গা দখল করে গেল, আর যাঁরা দেখলেন তাঁরা আগেই দেওয়াল পরিস্কার করে রেখেছিলেন। এক ফুল থেকে আর এক ফুলে কাগজে কলমে না হলেও মনে মনে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন কর্তারা। গতি বুঝে ইও- স্যার ও পরেছেন গেরুয়া বস্ত্র। কী বুঝলেন?”