অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে ফিরছেন কাউন্সিলর ভীষ্মদেব ?

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ অনেকদিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল। এবার তা সত্যি হতে চলেছে। বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার আজ কংগ্রেসে ফিরছেন বলে খবর। আজ দুপুর একটায় জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে অধীর চৌধুরীর হাত থেকে দলীয় পতাকা ধরে তাঁর দলবদলের সম্ভাবনা। আর তা হলে বহরমপুর পুরসভায় পাল্লা ভারি হবে কংগ্রেসের।

ভীষ্মদেব কর্মকার একসময় কংগ্রেসেই ছিলেন। ছাত্র পরিষদেই তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি। কিন্তু তিনি যখন রাজনীতির ময়দানে ছড়ি ঘোরাতে এলেন, রাজ্যে তখন বইছে জোর বাম বিরোধী হাওয়া।২০১১ সাল রাজ্যের ক্ষমতা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। জেলায় জেলায় বইছে তখন ঘাসফুলের হাওয়া। সেই হাওয়ায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন একসময় সৌমিক হোসেন ঘনিষ্ঠ ভীষ্মদেব। সৌমিক তখন তৃণমূলের যুব সংগঠনের রাজ্য সভাপতি। যদিও কংগ্রেস সেদিন আজকের মতো বেহাল ছিল না।

ছাত্র রাজনীতিকে জড়িয়ে ভীষ্মদেব তৃণমূল দলের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব তৈরি করতে পেরেছিলেন গত দেড় দশকে। সৌমিকের ছায়া থেকে সরে নাড়ুগোপালের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে সেই নাড়ুগোপালকে ছাপিয়ে একক পরিচিতি অর্জন করেছেন ভীষ্মদেব এই বহরমপুরেই। নিজেকে নেতা প্রমাণ করে তিনি হয়েছিলেন তৃণমূলের যুব সংগঠনের জেলা সভাপতি। একসময় বহরমপুর থানায় কান পাতলে শোনা যেত, ভীষ্মদেবের একটা হাত তালিতে যত জমায়েত করার ক্ষমতা ছিল যে কোন মিছিলে সভায়, তা না কি প্রবল প্রতাপ থাকা বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের সে ক্ষমতা ছিল না। নাড়ুগোপালের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিলেন না কি ভীষ্মদেব, পুরসভার অলিন্দে দাঁড়ালে ভেসে আসে সে কথা।

ভীষ্মদেবের সঙ্গে তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি সম্পর্ক থাকায়, তৃণমূলে অভিষেকের গুরুত্ব যত বেড়েছিল জেলায় ভীষ্মদেবের পায়ের নিচের মাটি শক্ত হয়েছিল ততই। ক্ষমতা থাকায় ভীষ্মদেবকে গুরুত্ব দিতেন জেলা নেতারাও। তবুও রাজনীতির খেলায় শেষপর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনে বড়ঞায় তাঁর টিকিট পাওয়া বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁর দূরত্ব বাড়ে তৎকালীন জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের সঙ্গে। ভীষ্ম ভোটে লড়াই করেন নাড়ুগোপালের হয়ে। রাজ্যে যখন ঘন হচ্ছে পদ্মবন, অভিষেক যখন প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছেন, সেই সময় অভিষেকের হাত ছেড়ে দলবল নিয়ে অধীর চৌধুরীর হাত ধরতে এগিয়ে আসছেন এই তরুণ নেতা। যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে জেলা পরিষদের এক প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষেরও।

কখন ? যখন দলের তরুণ নেতারা নাগাড়ে আনাচে কানাচে বিষোদ্গার করছেন অধীরকে সামনে রেখে। যখন অধীর চৌধুরীকে প্রায় ব্রাত্য দাবি করে জেলা থেকে রাজ্য রাগে ফুঁসছেন কংগ্রেসেরই অধীর বিরোধীরা। বিশ্বস্ত নেতার অভাবে ধুঁকছে জেলা কংগ্রেস। কংগ্রেসে ফিরতে চেয়েও অধীরকে দোষী করে পদ্ম ঘেঁষা ঋতব্রত তৃণমূলে গা এলিয়েছেন জেলার তাবড় তৃণমূল নেতারা, সেই সময় ভীষ্মকে আশ্রয় দিলেন বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি তো বটেই দেশের রাজনীতির অন্যতম ওজনদার মুখ অধীর। আর তা শুরু করলেন তাঁর সাধের পুরসভা দিয়েই। অতীত ভুলে অধীরের সঙ্গে ভীষ্মদেব জুটি বাঁধলে কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি হবে, যা রাজ্য রাজনীতিতে পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতির অভিজ্ঞরা। ভীষ্মদেবকে দলবদলের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি অবশ্য কিছুই বলতে চাননি। এমন খবরের সত্যতায় সকাল সকাল সিলমোহর দিতে নারাজ কংগ্রেসও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights