পর্যটকের ডানা মেলার হদিশ দিতে বহরমপুরে কাল শুরু ট্যুরিজম কনক্লেভ

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ইতিহাসের জেলা মুর্শিদাবাদ। আবার মুর্শিদাবাদ মানেই ইতিহাস প্রিয় পর্যটকের প্রিয় শহর। মুর্শিদাবাদের সদর শহর বহরমপুরেও রয়েছে ইংরেজ আমলের স্মৃতি বিজরিত সৌধ থেকে সেই সময় নির্মিত দালান কোঠা। অথচ ভ্রমণের সমস্ত উপকরণ থাকা স্বত্বেও উদ্যোগের অভাবে বারবার ধাক্কা খেয়েছে মুর্শিদাবাদের পর্যটন ব্যবসা।.সরকার একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে আজও ট্যুরিজ্যুম সার্কিটের মধ্যে পরেনি মুর্শিদাবাদ। নতুন সরকারও উদ্যোগ নিয়েছে। আশায় বুক বাঁধছেন পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থায় মুর্শিদাবাদের অতীত ঐতিহ্য ও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য আনুষঙ্গীক উপকরণে সেজে উঠেছে জেলা। আর এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটাতে আগামী দু-দিন বহরমপুরে বসছে পর্যটন মেলা। আবার সরাসরি মেলা না বলেও বলা যেতে পারে মুর্শিদাবাদ ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মুখোমুখি বসতে চলেছেন মুর্শিদাবাদ ও ভিন জেলার পর্যটন সংস্থারা। সেখানে হাজির হলে পর্যটকরা খুঁজে নিতে পারবেন তাঁদের বেড়ানোর ঠিকানা।

অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শিবজ্যোতি ভৌমিক বলেন, ” এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো একটি ‘সেলার-বায়ার মিট’-এর আয়োজন করা। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫২ জন বড় ট্যুর অপারেটর ও হোটেলিয়ার্স (Buyers) আসছেন।” তিনি আরও বলেন, “মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন নামী প্রপার্টি ও ব্যবসায়ীদের (Sellers) সাথে বাইরের অপারেটরদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে মুর্শিদাবাদে পর্যটক পাঠান। এর ফলে হোটেলিয়ার্স থেকে শুরু করে গাইড ও টাঙ্গাওয়ালা—সকলেই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।” দীর্ঘদিন ধরে মুর্শিদাবাদের পর্যটনকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রি বা সেক্টর হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে চেষ্টা চলছিল, ট্যুরিজম মিনিস্টারের আশ্বাস অনুযায়ী তা বাস্তবায়নের পথে, দাবি তাঁর।

বহরমপুর শহরের একটি অভিজাত হোটেলে বসে এই ট্যুরিজম কনক্লেভের মূল এই উদ্যোক্তা দাবি করেন “কলকাতার পরেই পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশি সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত (Government Approved) থ্রি-স্টার ও ফোর-স্টার হোটেল রয়েছে মুর্শিদাবাদে। আর শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, সমগ্র ভারতের মধ্যে মুর্শিদাবাদ ঐতিহ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।” তিনি আরও বলেন, “সাধারণত নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই তিন মাস মুর্শিদাবাদে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে নতুন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, বছরের অন্তত ৯ থেকে ১০ মাস যেন এখানে ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এটি সফল হলে হোটেল, ট্রান্সপোর্টার থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত প্রত্যেকেই উপকৃত হবেন। ” কারণ, এই কনক্লেভে বাইরের অপারেটরদের নিজস্ব ক্লায়েন্টদের মুর্শিদাবাদে ঘুরতে পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে মুর্শিদাবাদে বাইরের বিজনেস আসবে বলে মনে করেন তিনি।এই মেলায় বিভিন্ন এজেন্সির স্টল থাকছে। এখান থেকে স্থানীয় মানুষ দার্জিলিং, কাশ্মীর বা দেশ-বিদেশের যেকোনো জায়গায় ভ্রমণের জন্য বুকিং করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights