উপ-নির্বাচনের আগে অধীরের সভায় জনজোয়ার কংগ্রেসকে শক্তি জোগাবে রেজিনগরে

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ অধীর চৌধুরী ডাক দিলে গাঁ-গঞ্জ উজাড় করে বহরমপুরে আসা মুর্শিদাবাদের মানুষের পুরনো অভ্যেস। গত দেড় দশকেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। আজ পদ্ম সরকারের আমলেও তার যে এতটুকু বদল হয়নি তার প্রমাণ দিল সোমবার ভিড়ে ঠাসা বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়। যা দেখে ভ্রু কুঁচকালেন নিন্দুকেরা। অধীর চৌধুরীর কাছে থেকেও দূরে গিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁরা হাত কচলালেন দূর থেকেই।

সামনেই রেজিনগর উপনির্বাচন। তার আগে এই জনজোয়ার পরিবর্তনের বাংলায় কংগ্রেসকে শক্তি জোগাবে মানসিকভাবে, একথা বলাই বাহুল্য। আজ সভায় যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা অন্তত: নিজেদের মধ্যে রেজিনগরের অতীত রোমন্থন করতে করতেই বাড়ি ফিরবেন, একথা তাঁদের সঙ্গে কথা বলার মাঝে টোকা দিলেই বোঝা যায়। বেলডাঙা, রেজিনগর, ভাবতা, শক্তিপুর থেকে এদিনের সভায় যাঁরা এসেছিলেন তাঁরা বললেন, রাজ্যের জোড়াফুলের সুসময়েও রেজিনগর কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়নি। ২০১১ সালে হুমায়ুন কবীর এই আসনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন, কিন্তু ২০১৩ সালে ওই আসনে হেরে যান কংগ্রেসের কাছেই। ২০১৬ সালেও রবিউল আলম চৌধুরী কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য এককভাবে ২০২১ সালে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। যত হিসেব বদলে গেল এই ২০২৬-এ।

হুমায়ুন কবীর সেই হিসেব বদলে দিয়ে দ্বিতীয়বার বিধায়ক হলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর আত্মবিশ্বাস এতটাই তুঙ্গে যে তিনি এই আসন থেকে বিধায়ক পদে পদত্যাগ করে নিজেই ডেকে আনলেন উপনির্বাচন। সাধারণ নির্বাচনে একপেশে জিতলেও এবার হাওয়া তাঁর পক্ষে নেই বলেই মত রেজিনগরের বাসিন্দাদের। বিজেপি সেই হাওয়া পক্ষে টানতে মলয় মহাজনকে মাঠে নামিয়ে জনমত মেপে নিতে চাইছে। বিজেপি বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি হিসেবে একঝড়ে পাঁচটি বিধানসভা জিতে নিজের নম্বর বাড়িয়ে নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্যের কাছে। তাঁকেই প্রার্থী করে রেজিনগর আসন জেতার পরিকল্পনাও রয়েছে গেরুয়া শিবিরের, দাবি সূত্রের। আর সংখ্যালঘু অধ্যূষিত এই রেজিনগরে হিন্দু নেতার বিপরীতে মুসলিম নেতাকে দাঁড় করিয়ে বাজিমাত করতে চাইছে কংগ্রেস। তা অস্বাভাবিক নয়, বলে দাবি এলাকাবাসিরও। দুই আর একে তিন হলেও হতে পারে দাবি কংগ্রেস নেতাদেরও।

তবে শেষ নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকালে এই দাবি অবান্তর মনে হয়। শাসকের সঙ্গে থাকা রেজিনগর, বেলডাঙার গত দশ বছরের বেশি সময়ের অভ্যাস। ওই দুটি বিধানসভা সহ রাজ্যে প্রবল তৃণমূল বিরোধী হাওয়া ওঠার সুবিধা পেয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলি। সেই হাওয়া থিতিয়ে পদ্মবনে আশ্রয় নিতে ছুটছেন পরিবর্তনশীল মানুষ। মাস দেড়েকের মধ্যে নয়া সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা অসুবিধার পাশাপাশি সরকারি দলের বাস্তব ইচ্ছেও অনেকটা পরিস্কার হয়ে যাবে। বিপ্লব কিংবা প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা এখন বিপজ্জনক দাবি করে রেজিনগরের আর এক অংশের মানুষের কাছে কংগ্রেসকে ‘তামাদি’ মনে হচ্ছে। সেই অংশ চাইছে রেজিনগরও শাসকের পক্ষে থাক। তাই সংখ্যালঘু মুখের বদলে সংখ্যাগুরুকে আপাত মেনে নিতেও অসুবিধা নেই, বলেও মত রয়েছে তাঁদের। আর এই দুইয়ের মধ্যে লড়াইয়ে পিছিয়ে গিয়েছে হুমায়ুনের দল। সেই ফাঁকে ঘরের ভোট ঘরে ফেরানোর স্বপ্নে বিভোর কংগ্রেস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights