বিদ্যুৎ মৈত্র, সংবাদ হাজারদুয়ারীঃ মুর্শিদাবাদ জেলার District Development Coordination and Monitoring Committees (DISHAs) কোনও বৈঠক ডাকে না। ফের একবার সেই দাবিতে সরব হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে অধীর বলেন, ” কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকারের টাকা কীভাবে খরচ করা যায় প্রত্যেক জেলায় তার ভালমন্দ বিচার করবার জন্য একটি কমিটি আছে। এই জেলায় অধীর চৌধুরী ওই কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় কমিটি বৈঠক ডাকে না।” সরকারের এই মনোভাবকে উন্নয়নমূলক আগ্রাসন বলেও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
গত বারো বছরে ওই কমিটির বৈঠক ডাকা হয়নি। শুধু তাই নয় অধীর দাবি করেন, ” একজন ডিএম এই বৈঠক ডেকেছিলেন। তারপর দিনই তাঁর বদলির নির্দেশ আসে নবান থেকে।” এর ফলে মুর্শিদাবাদ জেলায় পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা, গৃহনির্মাণ থেকে একশো দিনের কাজ সর্বত্র তৃণমূলের যে ব্যাপক দূর্নীতি হচ্ছে তা অনুসন্ধান করবার সুযোগ থেকে আমি বঞ্চিত।
২০২২ সালে কোভিড পরিস্থিতিতেও একবার এই কমিটির বৈঠক না ডাকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন অধীর। সেবারও তাঁর অভিযোগ ছিল, সরকারি দলের সাংসদ বিধায়করা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন কিন্তু বিরোধীরা সেই সুযোগ পায় না। ডায়মণ্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা সেবার অধীর বলেছিলেন, “ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো বলে উনি যে সুবিধা পান তা আমাদের মত সাংসদরা পাবেন না। ডায়মন্ডহারবারের মত রাজ্যের বহু জায়গায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো খারাপ। অথচ ডায়মন্ডহারবারের মানুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা পাচ্ছেন অন্য কোথাও সেই সুবিধা নেই। আমরাও চাই এইরকম কাজ করতে কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের জেলায় দিশা কমিটির বৈঠকই হয় না।”
এদিন মহঃ সেলিমও অধীরের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, “বিজেপি বা তৃণমূল গণতন্ত্র মানে না। তাই বিরোধী দলের সাংসদ বিধায়কদের তহবিল খরচ করে উন্নয়নের কাজ করতে দেয় না। আমি নিজেও যখন এমপি ছিলাম তখনও দেখেছি এক সমস্যা। এরা একদলীয় ক্ষমতা চায় তাই বিরোধীদের স্থান নেই।”