সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ জল-কাদা উপেক্ষা করে সিপিএমের সভা ভরালেন মুর্শিদাবাদের প্রান্তিক মানুষেরা। ভরসা দিলেন সিপিএমের জেলা নেতাদের। শুধুমাত্র সংখ্যায় ভর করে রাজ্য পরিচালনার ভার পেয়েছে বিজেপি, তারমানে রাজ্যের সব মানুষ বিজেপি হয়ে গিয়েছে এমন নয়। তাহলে এত মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেন কেন? সেই প্রশ্নটা আগে করুন। মুখে বিরক্তি টেনে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে গেলেন তরুণ সাবির শেখ। বললেন, ” বড় বড় সংখ্যা তৃণমূলও দেখিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত টেকেনি।”
এগারো দফা দাবিতে জেলাশাসককে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলা সিপিএম। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে ওইদিন জড়ো হয়েছিলেন এফইউসি মাঠে। সভায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের একমাত্র বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা সহ জেলা নেতাদের একাংশ।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি রাজ্য পরিচালনার ভার নিয়ে প্রতি ঘরে স্মার্ট মিটার বসানোর নির্দেশ দিয়েছে। অথচ ভোটের প্রচারে দুশো ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ মুকুব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এদিন সিপিএম নেতারা বিক্ষোভ সভা থেকে বিজেপিকে শুধু সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন তা নয়, জামির বলেছেন, “রান্নার গ্যাসের দাম হাজার টাকা ছঁই ছুঁই। জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। আর সংকল্প পত্রে কী লিখেছিল বিজেপি? দাম কমানোর বদলে দাম বেড়েই চলেছে।” বর্ষা আসলে কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে নদী এলাকার মানুষজনের। ফি বছর খবরের কাগজে সেই ভাঙনের ছবি শিরোনামে জায়গা পায়। সেই ছবি দেখে মেলে দিস্তে দিস্তে প্রতিশ্রুতি অথচ দিন বদলায় ঘরা হারানো মানুষজনের। জামির তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ” যেখানে বাঁধ দেওয়ার দরকার। সেখানে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা হয়েছে। আর কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। পুনর্বাসন দেওয়ার দাবি তুলেছি আমরা।” বিজেপি অবশ্য দাবি করেছে, তাঁদের দুই সরকার মিলে নদী ভাঙন রোধে ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। অথচ দেশের শীর্ষ আদালত ট্রাইবুনাল ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা যাতে ফের আবেদন করতে পারেন, তার জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিল। আজ ও সেই কাজ শেষ হয়নি। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় মুর্শিদাবাদ থেকে বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮২২ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে, ওই জেলা থেকে বাদ পড়েছে মোট ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জনের নাম।
বৃষ্টিধারা উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় দিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিলেন যাঁরা এফইউসি মাঠে তাঁদের নিরাশ না করে বামনেত্রী মীনাক্ষী বলেছেন ভুল বানানের জন্য যে সব ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে তার দায় প্রশাসনের।