বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ গত লোকসভা নির্বাচনে যাঁকে হারিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান, সেই প্রাক্তন সাংসদের তহবিলের হিসেব নিকেষই হয়ে উঠল চলতি নির্বাচনে তাঁর প্রচারের হাতিয়ার। তাহের বলেন, ” ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাংসদ ছিলেন সিপিআই(এম) দলের বদরুদ্দোজা খান সাহেব। তিনি তার সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্ধেক তথা ১২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারেননি যেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।”
তিনি আরও বলেন, ” ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা রূপায়ণ এবং বাস্তবায়ন মন্ত্রকের মাধ্যমে উল্লেখিত ১২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আমি আমার নিজের সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলে নিয়ে এসে মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাতটি বিধানসভায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে বরাদ্দ করেছি।”
আঠারোতম লোকসভা নির্বাচনের আবহে বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন তাঁর সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করতে দেয় না তৃণমূল সরকার। এদিন বদরুদ্দোজা খানও বলেন, “তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে এই টাকা খরচ করতে দেওয়া হয়নি। জেলাশাসকদের দিয়ে এই কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল। আমি তৎকালীন ডিএমের বিরুদ্ধে (ওয়াই রত্নাকর রাও) লোকসভায় অভিযোগ করেছিলাম।”
প্রাক্তন শিক্ষক নেতা আরও অভিযোগ করেন, ” লোকসভা থেকে যখন জেলাশাসককে চিঠি দেওয়া হয় তখন তিনি বদলি হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ নির্বাচনের কাছাকাছি জেলাশাসকের পক্ষ থেকে অর্ধসত্য চিঠি এল।” তিনি আরও বলেন, ” কোনও বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের এই টাকা খরচ করতে দেওয়া হয়নি। রেকর্ড দেখলেই বোঝা যাবে। পরবর্তী জেলাশাসক যিনি তৎপর হলেন তাঁকে তিন মাসের মধ্যে বদলি করে দেওয়া হল। দিশা কমিটির কোনও বৈঠক করতে দেওয়া হয়নি। আজও হয় না। আসলে এই মিথ্যাচার করবেন বলেই সেদিন কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ”
তাহের পাল্টা বলেন, ” তাহলে অধীর বাবু খরচ করলেন কী করে? আসলে সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করবার কথা ওঁর মাথাতেই ছিল না।” সিপিএম জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, ” মানুষের কাছে ওঁর জবাব দেওয়ার কিছু নেই তাই পুরনো বিষয় তুলে আনছেন তাহের। মানুষের কাছে পাঁচ বছর যান নি। এলাকার মানুষের দাবি সংসদে তুলতে পারেন নি তাই অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতে গত বারের নির্বাচনী প্রসঙ্গ টানছেন।”