মুর্শিদাবাদের মানুষের মন টেনেছেন সেলিম, তৃণমূলের দাবি ভোটের প্রচার

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ ডোমকলে পুলিশ পথ আটকেছিল। কুর্মিতলার মানুষ পথ ছেড়ে দিল শুক্রবার। বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী মহম্মদ সেলিম পথে হাঁটলেন নিচু তলার বাম-কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে।

রাজনীতির অলিন্দে Ambitious politician হিসেবেই তাঁর পরিচয়। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়া ইস্তক মহঃ সেলিম চষে ফেলেছেন সাতটি বিধানসভার অলিগলি। বাগ্মীতার সঙ্গে বাচনভঙ্গীতে মন মজেছে গ্রাম-বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের। সেই আশাতেই ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্নে মশগুল মুর্শিদাবাদ সিপিএমও।

নির্বাচনের দোরগোরায় দাঁড়িয়ে শুক্রবার যখন কুর্মিটোলা বাজার হয়ে ইচ্ছাগঞ্জ ছুঁয়ে নসিপুর রাজবাড়ি জগৎ শেঠের বাড়ির এলাকায় প্রচার করছিলেন, স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে সাধারণ মানুষজন বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন হাত ‘বহিরাগত’ সেলিমের দিকে। এদিন তাঁর প্রচারসঙ্গী ছিলেন মুর্শিদাবাদ শহর কংগ্রেসের সভাপতি অর্ণব রায়। তিনি বলেন, ” মেরুকরণের রাজনীতির কু-ফল মানুষ বুঝতে পারছে না। তাই সিপিএম-কংগ্রেসকে এড়িয়ে যাচ্ছে। সেলিমের প্রচার আশা করা যাচ্ছে তা দূর করতে পেরেছে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ ভরসার জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। সেলিম সাহেব যেখানে যাচ্ছেন সেখানে মানুষজন বাইরে বেড়িয়ে আসছেন স্বতস্ফূর্ত ভাবে। তাঁরা যেন শক্ত প্রতিপক্ষ পেয়েছেন। আবেগে কেউ বুকে জড়িয়ে ধরছেন, কেউ কাঁদছেন। মানুষ যেন বুকে বল পেয়েছে।” তাঁর নানান সভায় বলা কথায় কংগ্রেস কর্মীদের মনেও দাগ ফেলেছেন সেলিম, বলছিলেন সকালে তাঁর সফরসঙ্গী কংগ্রেসের চেনা লোকজনও। প্রবীণ সিপিএম নেতা শ্যাম দে বলেছেন “সেলিমের জন্য রক্ষণশীল মহিলারাও বাইরে বেরিয়ে আসছেন আগল খুলে”।

আরও পড়ুনঃ মুর্শিদাবাদে পাশের হার কম মেয়েদের

সরাসরি রাজনীতিতে নারাজ ব্যবসায়ী সমিতি। মুর্শিদাবাদ সিটি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলছেন, “কে জিতবে কে হারবে তা নিয়ে আমাদের কিছু বলবার নেই। শুধু এটুকু জানি পর্যটনের মানচিত্রে যে শহর দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারত সেই শহরের উন্নতির জন্য কোনও দল কিছু করে নি। সে যে দলেরই হোক সেই জনপ্রতিনিধির হাত ধরে আমরা চাই জেলার পর্যটন শিল্প ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে।”

তবে তৃণমূল অবশ্য এসবকে ভোট প্রচারের অঙ্গ ছাড়া বিশেষ কিছু ভাবছে না।মুর্শিদাবাদ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ইন্দ্রজিৎ ধর মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যানও। তিনি বলছেন, “আমরা এখান থেকে আড়াই লক্ষের বেশি ভোটে জিতব।” তাঁর আরও দাবি, ” জোট প্রার্থী মহম্মদ সেলিম ২০০৮ সাল থেকে ১১ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘু উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সাচার রিপোর্ট বলছে তাঁদের জন্য কিছুই করেন নি সেলিম। ওরা একটা ওয়ার্ড থেকে তিনটে ভোট জোগাড় করতে পারে না তো তিনশো। একি আলাদিনের আশ্চর্য্য প্রদীপ না কি যে রাতারাতি ভোল বদলে যাবে? ওরা সব বুথে এজেন্ট দিতে পারবে না।” সঙ্গে এটাও বললেন, “আমরা তো একশো জনকে খুশি করতে পারব না উন্নয়ন দিয়ে। কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হবেন এটাই বাস্তব। তারাই ওদের ভরসা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights