সংবাদ প্রতিনিধি, বহরমপুরঃ মুর্শিদাবাদ জেলার সেরা স্কুলের তালিকায় অদল বদল হয়েছে বহুদিন। মেধার ভিত্তিতে অভিভাবকের মনে জায়গা করে নিয়েছে গোরাবাজার ঈশ্বরচন্দ্র ইন্সটিটিউশন। চলতি বছর মাধ্যমিকেও জেলার মেধাবী তালিকায় ওই স্কুলের পড়ুয়াদেরই রমরমা। প্রথম দশের একুশ জনের তালিকায় আইসিআইয়েরই দশ জন ছাত্রের নাম। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অমর কুমার শীল বলেন “স্কুলের শিক্ষকদের নিয়মিত ভাল পড়ানো, পর্যাপ্ত ক্লাস, পর্যাপ্ত শিক্ষক সব মিলিয়েই ওই স্কুল এখন প্রথম সারিতে।” এবার ওই স্কুলের ১৮৩ জন পড়ুয়া মাধ্যমিকে বসেছিল।
তবে অন্যবার রাজ্যের প্রথম দশজনের মেধা তালিকায় স্কুলের একাধিক পড়ুয়ার নাম থাকলেও এবার তা হয় নি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত দত্ত ২০২৩-এর ডিসেম্বরে অবসরগ্রহণ করেন। চাকরি জীবনের শেষবেলায় চেয়েছিলেন তাঁর হাতে গড়া ছাত্ররা যেন টেস্টে সকলেই পাশ করে। স্যারের সেই আর্জি বজায় রেখেছিল ছাত্ররাও। সকলেই টেস্টে পাশ করেছিল। এদিন জয়ন্ত বাবু বলেন, ” এরা রাজ্যের নিরিখে স্থান করতে পারত কি পারত না সেটার থেকেও আমি দেখেছিলাম এরা খুব সিরিয়াস ও মনোযোগি ছাত্র। তার ফল ওরা পেয়েছে।”
ওই স্কুলের ছাত্র অনীক মণ্ডল জেলায় প্রথম হয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৩। রাজ্যে মেধা তালিকায় ৬৮৪ নম্বর পেয়েছে ১৮ জন পড়ুয়া। সেই হিসেবে অনীক একাদশ স্থান অধিকার করেছে রাজ্যে। অনীক টেস্টে তৃতীয় হয়েছিল। তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৪৪। অনীক বলে “টেস্টের পর ইতিহাস, বাংলা আর জীবন বিজ্ঞান একটু বেশি সময় দিয়ে পড়েছি।” আর একটু বেশি সময় দেওয়াতেই চুড়ান্ত পরীক্ষায় জীবন বিজ্ঞানে মিলেছে একশোয় একশো। প্রকৃতি বিজ্ঞানেও সে একশোয় একশো পেয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিংএর ভবিষ্যৎ ছাত্র অনীকের দাবি “স্কুলের স্যাররা খুঁটিয়ে পড়াতেন প্রতিটি বিষয়।”
জেলায় দ্বিতীয় রাইহান পারভেজ। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৮০। সে খড়গ্রাম নগর এএম হাইস্কুলের ছাত্র।৬৭৯ নম্বর পেয়ে যুগ্ম তৃতীয় হয়েছে সুমিত ঘোষ ও ঈশিতা সরকার । সুমিতও গোরাবাজার ঈশ্বরচন্দ্র ইন্সটিটিউশনের ছাত্র। কিন্তু ঈশিতা লাধুরাম তোষনিওয়াল সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্রী।
মুর্শিদাবাদ জেলা শিক্ষা ভবন প্রথম দশ জনের মেধা তালিকায় একুশ জনের নাম আছে। তারমধ্যে একজন তালিকা অনুযায়ী জেলায় চতুর্থ হয়েছে মহারানী কাশীশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী অদ্রীতা পাল। তাঁর প্রাপ্য নম্বর ৬৭৮। জেলার মেধাবীদের মধ্যে পঞ্চম হয়েছে গোরাবাজার ঈশ্বরচন্দ্র ইন্সটিটিউশনের আর এক ছাত্র রীতব দত্ত। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৭৭। ওই স্কুলের আর এক ছাত্র সাগ্নিক মন্ডল ৬৭৫ পেয়ে ষষ্ঠ হয়েছে জেলায়। তিন জন ছাত্র একই নম্বর পেয়ে সপ্তম হয়েছে। নবগ্রামের খারেরা আখতার নওয়াজ হাসরাতুল্লা মেমোরিয়াল হাইস্কুলের তৌফিক ওমর, সাগরদিঘি কাঞ্চনতলা জেডিজে ইন্সটিটিউশনের মহম্মদ আশিফ, বসন্তপুর মডেল হাইস্কুলের তুহিন আখতার। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৭৪।
জেলা শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যায় জেলায় একই নম্বর পেয়ে অষ্টম হয়েছে চারজন মেধাবী। তাদের মধ্যে গোরাবাজার ঈশ্বরচন্দ্র ইন্সটিটিউশনের তিন জন ছাত্র সৌম্যব্রত রায়চৌধুরী, আর্য ভট্টাচার্য, সোহন সরকার। কান্দি রাজা মণীন্দ্রচন্দ্র গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী তৃষা ঘোষের নাম রয়েছে ওই তালিকায়। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৭৩।
জেলায় পাঁচ জন ছাত্র নবম স্থান অধিকার করেছে। তাদের মধ্যে চারজন ছাত্র গোরাবাজার ঈশ্বরচন্দ্র ইন্সটিটিউশনের। একজন লাধুরাম তোষনিওয়াল সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্রী। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৭২। কান্দি রাজা মণীন্দ্রচন্দ্র গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী দীপ্তি সরকার ও পাঁচগ্রাম আইএসএ হাইস্কুলের অনুশা আফরিন ৬৭১ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছে জেলায়।