রাত যত বাড়ল ততই বাড়ল শব্দবাজির দাপট

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বারণ সত্বেও কালীপুজোর রাতে বহরমপুরে ঠেকানো গেল না শব্দবাজির দাপট। বাধাহীন ভাবে রাতভোর দেদার ফাটল পটকা, শুনেও শুনল না পুলিশ, অসহায় বোধ করলেন একাংশ পুরবাসী। একাধিকবার শব্দবাজিতে রাশ টানলেও বাজির তান্ডবে কার্যত কাগজে কলমে ঠাঁই হল আদালতের ‘কড়া’ বার্তা। বহরমপুর পুরসভার একাংশ মানুষ প্রমাণ দিলেন, জীবনের থেকেও মূল্যবান উৎসব।

অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বহরমপুরের বাজারে দুর্গাপুজোতেই আমদানি হয়েছিল শব্দবাজির। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ দশ-বিশ হাত দূরত্বে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন আতসবাজির কারবারিরা। সেই সব দোকান খোলা ছিল কালীপুজোর রাতেও। কোনও কোনও দোকানে লোকজনকে সতর্ক করতে লিখে রাখা ছিল ” শব্দবাজি নিষিদ্ধ। শব্দবাজি চাহিয়া লজ্জা দেবেন না”। অভিযোগ, সেই সব দোকানেও আড়ালে বিকিয়েছে চকোলেট, কালীপটকা।

বহরমপুরে একটি বাজির দোকানে

অগস্টে ঘটে যাওয়া আরজি কর কান্ডের জেরে উৎসব থেকে বিরতি টানতে চেয়েও একাংশ শহরবাসীর ইচ্ছেতেই উৎসবের চেহারা নিল কালীপুজোর রাত। দিনেই আভাস ছিল রাতের। রাত বারোটায় পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির চৌহদ্দিতেই তান্ডব চলল বাজির। পুরপ্রধানকে হোয়াটস অ্যাপে তার কারণ জানতে চেয়েও মেলেনি উত্তর।

২০২১ সালে উৎসবে পরিবেশ বান্ধব আতসবাজি পোড়ানো যাবে বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেবারও পুলিশের কড়া হুঁশিয়ারির সামনে লুকিয়ে চুরিয়ে বিকিয়েছিল শব্দবাজি। তবুও পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছিল একাধিক বাজি কারবারিদের। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল মজুত করা বাজি তৈরির সামগ্রী। যদিও পুলিশের একাংশের দাবি, পরিবেশ বান্ধব বাজি এইসব জায়গায় তৈরি হয় না। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারাবাতি, রং মশালের মতো আতসবাজি তৈরি করে। সেগুলোও পরিবেশের ক্ষতি করে। আর তার আড়ালে অসাধু ব্যবসায়ীর কারখানায় তৈরি হয় শব্দবাজি।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরিন্দম দাস অবশ্য বলছেন, ” আদালত নির্দেশ দেবে। পুলিশ তা পালন করবে। কিন্তু মানুষ সচেতন না হলে এই শব্দবাজির বাড়বাড়ন্ত ঠেকানো যাবে না। ” বহরমপুরের বাসিন্দা অরূপ পালে পাল্টা জিজ্ঞাসা, “আগে তো ঘরে ঘরে বাজি ফোটানো হত। এখন তো তাও কিছুই হয় না। একদিন বাজি ফাটালে প্রকৃতি কতটা অসুদ্ধ হবে?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights