বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ে দুয়ারে পুরসভা

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বহরমপুর শহরে জমি বাড়ির দরুণ প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পত্তি কর বকেয়া আছে নাগরিকদের। টাকার অঙ্কে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। সেই টাকা আদায়ে অবশেষে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে বহরমপুর পুরসভা। ফ্রেব্রুয়ারী মাসের ২৩ তারিখ কর আদায়ের জন্য পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ডে শিবির করবে পুরসভা। তারপর থেকে সাত দিন অন্তর বিভিন্ন এলাকার ক্লাব কিংবা বিদ্যালয় অঙ্গন কিংবা পুর পরিষেবা কেন্দ্রে শিবির বসবে। পুর কতৃপক্ষের আশা এই শিবির থেকে বকেয়া করের অধিকাংশটাই উঠে আসবে।

একটি পুর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স বাদ দিলে আয়ের ভিত্তিই সম্পত্তি কর। সেই করের টাকায় মেলে যাবতীয় পুর পরিষেবা। জল, আলো থেকে যাবতীয় নাগরিক স্বাচ্ছন্দ। পুর চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন “দীর্ঘদিন ধরে এই কর জমা না পড়ায় পুরসভার আয় কমে যাচ্ছে। আর আয় কমলে ব্যয়বহুল পুর পরিষেবা দেওয়াও মুশকিল হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, ” পুরনো কর কাঠামোর কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাও সময়ে কর পরিশোধ করেন না নাগরিকরা। সেই কর আদায়ের জন্যই পুরসভা মানুষের কাছে যাচ্ছে।”

কর আদায়ের জন্য বহরমপুর পুরসভা বিভিন্ন ওয়ার্ডে অস্থায়ী পুরকর্মী নিয়োগ করেছে। অভিযোগ, অধিকাংশ পুরবাসী তাদের আজ দেব কাল দেব করে খালি হাতেই ফিরিয়ে দেন। বহরমপুর পুরসভার খাতায় ৪৪ হাজার বাড়ি নথিভুক্ত আছে। তারও বেশি বাড়ি যা এখনও মিউটেশনই হয়নি। আর তা শহর জুড়ে গজিয়ে ওঠা ফ্ল্যাট বাড়ি। ২০২৪ সালে অক্টোবরে সেই সব বাড়ি বা ফ্ল্যাট চিহ্নিত করে তাদের নোটিশ পাঠিয়েছে পুরসভা। সেই সব কিছু ধরলে পুরসভা সূত্রে জানা যায়, বকেয়া করের পরিমান দাঁড়াবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এই করের টাকায় পুরকর্মীদের বেতনও দেয় পুরসভা। আর বকেয়া করের ধাক্কায় কর্মীদের বেতন দিতেও ঘাম ছুটছে পুরকর্তার।

নাড়ুগোপাল বলেন, “শিবিরে এসে সম্পত্তি কর যারা পরিশোধ করবেন তাদের আইনের মধ্য থেকে যতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব তা দেওয়া হবে। আর কর পরিশোধ না করলে পুর পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights