ফিরলেন কাঞ্চন, মলয়ের টিমে “ফিল গুড” হাওয়া

Social Share
বিধায়ক ও সভাপতির ফটোশেসন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পাদদেশে রবিবার

বিদ্যুৎ মৈত্রঃ আর নিজেকে দল থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারলেন না বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চন। বিধায়ককে প্রায় চার বছর পরে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে এসে যোগ্যতার পরিচয় দিলেন দলের সভাপতি পেশায় শিক্ষক মলয় মহাজন। সুব্রতও এলেন। পতাকা তুললেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে একে অপরকে জড়িয়েও ধরলেন। যা দেখে বিজেপি’র এক কার্যকর্তা আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বললেন, “ইয়ে তো পহেলা ঝাঁকি হ্যায় / পিকচার আভি বাকি হ্যায়।”

রামের জন্মদিন উপলক্ষে রবিবার বিকেলে গেরুয়া বাহিনীর প্রকাশ্য উন্মাদনা প্রত্যক্ষ করেছেন শহরবাসী। তাকেই অবশ্য “পহেলা ঝাঁকি” বলে এগিয়ে রাখছেন তাঁরা। তবে রামের জন্মদিনে ভূতপূর্ব সভাপতি শাখারভ সরকারকে এক পাশে, অন্য পাশে লোকসভার প্রার্থী নির্মল সাহাকে নিয়ে দলের মধ্যে ‘ফিল গুড’ হাওয়া বইয়ে মহাজন পরোক্ষে ” সব কা সাথ” থাকার বার্তা পাঠালেন নিচুতলায়। বিজেপি খানিকটা নড়ে উঠল। কেউ কেউ বললেন, “গুমোট কাটল।” কেউ বললেন ” সামনে শুধু স্বচ্ছ আচ্ছে দিন।” সংবাদ মাধ্যমের দিকে আঙুল বেঁকিয়ে মলয় বললেন ” কোন্দল আপনাদের রটনা, আমাদের মধ্যে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি কোনওদিন।” সে কথা এক কার্যকর্তাকে শোনালে তিনি অবশ্য হাসি চেপে রাখতে পারেননি।

ভূতপূর্ব সভাপতি শাখারভ সরকারকে এক পাশে, অন্য পাশে লোকসভার প্রার্থী নির্মল সাহা

লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরের বিধায়ক বাম গলিতে গেলে, ডান গলি স্বেচ্ছায় বেছে নিতেন শাখারভ সরকার। কিংবা তার উল্টোটাও যে ঘটত না এমন নয়। আর তা নিয়ে বহরমপুরের বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা বিব্রতই ছিলেন শুধু নয়, বিরক্তও ছিলেন দলের বহরমপুর সংগঠনের দুই মুখের উপর। একে অপরকে গুরুত্ব দেন না বলেই তাঁদের পারস্পরিক অভিযোগ ছিল। আর বিজেপি হেরে যেতেই কর্মী, সমর্থকদের সেই ক্ষোভ বাড়তে বাড়তে একসময় হতাশার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল।

দলের মুখ না বদলালে আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যে প্রহসনে পরিণত হবে তা ঢের বুঝেছিলেন রাজ্য নেতারা। নেতা বদলের যে হাওয়া রাম নবমীর দিন বহরমপুরের বিজেপি সমর্থকরা উপভোগ করলেন, আগামী দিনে জেলা কমিটি ঘোষণা হওয়া থেকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত সেই হাওয়া টিকিয়ে রাখাও চ্যালেঞ্জ মলয়ের কাছে। মহাজন কমিটিতে বিধায়ক গুরুত্ব পান কি না তা দেখতে মুখিয়ে আছেন কাঞ্চনের কাছের লোকজন। তবে বিধায়ককে কার্যালয়মুখী করা কিংবা দৃপ্ত ভঙ্গিতে রামনবমীর মিছিলে হেঁটে যাওয়া যদি মলয় মহাজনের প্রথম ও দ্বিতীয় পদক্ষেপ হয়, তিসরা ঝাঁকি অবশ্যই বহরমপুরের জেতা আসন ধরে রাখা।

রামনবমীর মিছিলে পা মেলানো মুসলিমদের মিষ্টি মুখ করাচ্ছেন ভূমিপুত্র বিধায়ক কাঞ্চন মৈত্র

সেই লক্ষেই চলতি মাসের ন তারিখের কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। ওইদিন মুর্শিদাবাদে বিজেপি’র তিন সংগঠন বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর একজায়গায় এসে জেলাশাসককে স্মারকলিপি জমা দিতে যাবে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে। সঙ্গে থাকবেন দুই বিধায়ক, তিন জেলা সভাপতি, কমন গৌরীশঙ্কর ঘোষ সহ লোকসভার আরও দুই প্রার্থী চিকিৎসক নির্মল সাহা, এমনকি সদ্য প্রাক্তন জঙ্গিপুর সংগঠনের সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষও। দিলীপ কি তবে আগামী দিনে দলের দায়িত্বে ফিরছেন ? এ ব্যাপারে এখনও অবশ্য সবাই স্পিকটি নট।

দিলীপ রাজ্যে দলের ভার নিন বা না নিন রাজ্য জুড়ে ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি নিমেষে নেই হয়ে যাওয়ায় সর্বত্র এখন শাসক দল তৃণমূল বিরোধী হাওয়া। আর সেই গরম হাওয়া থাকতে থাকতেই গেরুয়া বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছে জনমত পক্ষে টানতে। আর তাই এই জেলা গরম করা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে বলছেন কেউ কেউ। শুধু তাই নয়। সম্প্রীতির শহর বহরমপুরে রামনবমীর মিছিলে পা মেলানো মুসলিমদের মিষ্টি মুখ করিয়ে ভূমিপুত্র বিধায়ক অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিতেও চেয়েছেন।

সমাজকর্মী কাঞ্চন একসময় কংগ্রেসের কাউন্সিলর ছিলেন । এখন বিজেপি’র বিধায়ক। তাঁকে ধর্মীয় শ্লোগান দিতে হয় যতটা না আন্তরিকভাবে তার থেকে ঢের বেশি দলের নীতি মানতে। তিনি নিজেও জানেন ” এসব করে কারও কোনও মঙ্গল হয় না। কিন্তু তৃণমূল এক পক্ষ নিলে আর এক পক্ষ নিতেই তো হবে। নাহলে তাদের দেখবে কে?” আর কে না জানে যুদ্ধে আর প্রেমে সবই ন্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights