
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সামসেরগঞ্জ কিংবা পদ্মা কিনারা নয়, এবারের বর্ষায় ভাসছে মুর্শিদাবাদের নদী থেকে বহুদূরের একাধিক গ্রাম। সেই বন্যা কবলিত গ্রাম পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ সিপিএম,আরএসপি, সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতারা। ব্রাহ্মণী নদীর জল উপচে ভাসিয়ে দিয়েছে নবগ্রাম ব্লকের একাধিক গ্রাম। খড়গ্রাম ব্লকের ঝিল্লি সহ একাধিক গ্রাম জলের তলায়। দ্বারকা নদীর বাঁধ ভেঙে হিজল সহ কান্দির একাধিক গ্রাম জলের তলায়। বাদ নেই ভরতপুরও। ডুবে গিয়েছে চাষের জমি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধানের। জলবন্দী সেই সব গ্রামের একাংশ ঘুরে নেতারা বললেন, ” বন্যা দূর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর যে ভূমিকা সরকারের থাকার কথা তা আমাদের নজরে পড়ল না।”
তাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সাহায্যের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে তদ্বির করবেন বলেও গ্রামবাসীদের আশ্বাস দিয়েছেন। বাম্ফ্রন্টের নেতাদের কাছে পেয়ে এদিন গ্রামবাসীরা শাসকদলের দিকে আঙুল তুলে বলেন ” নেতারা কেউ আসেনি, আসেননি প্রশাসনের কেউ। আমরা মরলাম কী বাঁচলাম তাতে ওদের কিছু যায় আসে না।” মুর্শিদাবাদে আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে চলতি বছরের বন্যায়। যার অধিকাংশই চাষের জমি। বৃহস্পতিবারেও জেলায় ভাল বৃষ্টি হয়েছে।
শুধু চাষের ক্ষতিই নয়, বন্যার জেরে বন্ধ হতে বসেছে স্কুলের পড়াশোনাও। এক গ্রামের সঙ্গে আর এক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় স্কুলে যেতে পারছে না পড়ুয়ারা। যেখানে সুবিধা আছে সেখানে গ্রামের মধ্যেই নৌকা চালানোর ব্যবস্থা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম, এমনটাই দাবি গ্রামবাসীদের।
ভরতপুরের বন্যা কবলিত সাহাপুরে দাঁড়িয়ে নওফেল বলেন ” তৃণমূলের এক মন্ত্রী ভরতপুর এক নম্বর ব্লকে এসে পিকনিক করে চলে গিয়েছেন।” শুধু তাই নয় নওফেলের আরও অভিযোগ, ” অসহায় মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার বদলে তা নিয়ে নেতাদের মধ্যে দুর্নীতির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।” সিপিএম নেতা সচ্চিদানন্দ কান্ডারী বলেন, ” সব চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। সরকারের কোনও প্রতিনিধি এখানে আসেননি। ” তিনি দাবি করেন “এই চাষীদের ক্ষতিপূরণ দিক সরকার। ফসল বীমার ব্যবস্থা করা হোক যাতে নিরাপদে চাষবাস করতে পারে তাঁরা।”
এদিন সিপিএমের পক্ষে সচ্চিদানন্দ কান্ডারী, আরএসপি’র জেলা সম্পাদক নওফেল মহা সফিউল্লা, ফরোয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক বিভাস চক্রবর্তী, সিপিআই এর জেলা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও অন্যরা।