
দীপক বিশ্বাসঃ গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় বহরমপুর রবীন্দ্রসদনের সম্মুখ প্রাঙ্গণে নাট্যব্যক্তিত্ব শেখর সমাদ্দারের হাতে প্রদীপ প্রজ্বলনে মধ্য দিয়ে ঋত্বিকের পঞ্চবিংশতি বর্ষ দেশ বিদেশের নাট্যমেলা শুরু হয়। সুশৃঙ্খলভাবে উদ্বোধনের প্রাথমিক অনুষ্ঠানের পর দ্বিতীয়ার্ধে ঋত্বিকের নিজস্ব প্রযোজনা ‘মিষ্টার ভুলু’ পরিবেশিত হয় মূল মঞ্চে। স্নেহাশিস ভট্টাচার্য রচিত এবং বিপ্লব দে নির্দেশিত নাটকটি বহরমপুর শহরের নাট্যামোদীদের ঋত্বিকের বড়দিনের উপহার। ঋত্বিককে ধন্যবাদ যে সে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেনি। শিল্পের দায়বদ্ধতাকে স্বীকার করেছেন।
মনুষ্যচরিত্র বিশ্লষণে অতিমাত্রায় কোন প্রকার সাংকেতিকতার অনুপ্রবেশ ঘটাননি, যা ধরতে আবার পৃথক ঘাম ঝড়ানো অধ্যয়ন করতে হয়। তাতে নাটক দেখার স্বচ্ছন্দ স্পৃহা অবলুপ্ত হয়ে যায়। প্রাঞ্জল সেটের ব্যবহারে পারিবারিক পরিচিতি প্রদানে শতাংশ সফল। জোনাল এ্যাকটিং ভিন্ন স্থানিক পরিচয়ে কোন অসুবিধা সৃষ্টি করে না। গল্প পরিবেশনে বিপ্লব যে খোদার উপর খোদকারী না করে সহজিয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। সেজন্য বিপ্লব ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।
বিপ্লবকে না বোঝা দর্শককে ধরে ধরে বোঝানোোর দায়িত্ব নিতে হবে না। দর্শক কী বুঝবে, তা দর্শক নিজে নিলেই ভালো হয়। ঋত্বিক প্রযোজিত ‘মিস্টার ভুলু’কে দর্শকদের বুঝতে কোন বাধার সম্মুখীন হতে হবেনা। সমসাময়িক সামাজিক পরিস্থিতিকে মিলিয়ে নিতে পারবে।পৃথক ক্লাসের দরকার হবেনা। এ নাটকের কয়েকটি চরিত্রের অভিনয় বিশেষ স্মর্তব্য।
প্রথমেই স্মরণ করতে হয় সুমনের পুলিশ চরিত্রের অভিনয়। স্টাইল অ্যাক্টিং করে চরিত্রের নির্যাস নিঙড়ে দিতে শতাংশ সফল তিনি। ঈষৎ বেঁকে অভিনয় পুলিশের চরিত্রকে ধরিয়ে দেয়।নোংরামি বোঝাতে নাক খোঁটাটাও ঈঙ্গিতবাহী। তরণের জামাই বাবু চরিত্রে অভিনয় দাগ কাটে। এ্যাডিকশন জনিত নির্লিপ্ততা নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। ভুলুর চরিত্র নির্মাণে প্রভাকরের পরিশ্রমী প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করার সাধ্য কার? বাকীরা যথাযথ অভিনয়ে বেঁধেছেন নাট্যচলনকে। ভুলুর দ্বন্দ্ব অঙ্কনে আলোর লেখনে প্রশংসা না করে পারা যায়না। ছেঁড়া ছেঁড়া আলোর চিত্রণ দ্বন্দ্ব ধরতে সক্ষম হয়। তবে মনস্তাত্বিক ডাক্তারের চরিত্র উপস্থাপনে আরও অনুশীলনের প্রয়োজন উপলব্ধ হয়। সেটে মেরুদন্ডর একটি মাত্রচিত্র গোটা নাটকের বক্তব্যকে অব্যর্থভাবে ধরতে সহায়ক হয়। ঋত্বিক এ নাটক পরিবেশনে সামাজিক দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে দর্শক উপভোগকে উপেক্ষা করেননি।
শুধুমাত্র নাট্য পরিচালক শব্দ বন্ধে দীপক বিশ্বাসকে বোঝানো মুশকিল। নাট্যশাস্ত্রও অতিশয়োক্তি মনে হতে পারে কারও কারও। ব্রীহি সাংস্কৃতিক সংস্থা যাঁরা চেনেন তাঁরা জানেন দীপক বিশ্বাসের ব্যাপ্তি। যে সংস্থা শুধু শিল্পের জন্য শিল্পচর্চা করে না।