নেতৃত্বের সংকটে সিপিএমের ‘ভরসা’র এবিটিএ ?

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ রাজ্যে পালাবদলের পর অন্য শাখা সংগঠনে ধ্বস নামলেও মুর্শিদাবাদের শিক্ষক সংগঠন উল্টে অক্সিজেন জুগিয়েছে সিপিএমকে। সেই সংগঠনই এবার নেতৃত্বের সংকটে। সদ্য নব নির্বাচিত কমিটি গঠনের পর এমনটাই মনে করছেন সংগঠনের একাংশ শিক্ষক। প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জুলফিকার আলীকে সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির নব নির্বাচিত জেলা কাউন্সিল।

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মুখে নেতৃত্বে বদল করা হল সংগঠনে। অথচ সিপিএমের এই শাখা সংগঠন মুর্শিদাবাদ জেলায় দলের একপ্রকার মুখপত্র হিসেবে উঠে এসেছিল গত পনেরো বছরে। বাংলা বাঁচাও কর্মসূচিকে সামনে রেখে গ্রাম থেকে শহর জনভিত্তি যাচাইয়ে নেমেছে টিম মহম্মদ সেলিম। নিজেদের হারানো ভিতে টোকা দিয়ে দেখে নিতে চাইছেন গ্রহণ যোগ্যতা।

মানুষও আসছেন ভিড় করে। তবে তা আবেগের না আলস্যের ভিড় তা বোঝাতে বা বুঝতেও চাইছেন না ডিজিটাল দুনিয়ায় রাজ করা সিপিএমের তরুণ ব্রিগেড, দাবি সিপিএমেরই একাংশের। কিন্তু বাইক চালিয়ে যুগের হাওয়ায় তাল মেরে পুরনো জমিতে উড়ছে লাল নিশান। সেদিক থেকে দেখলে একশো পেরনো শিক্ষক সংগঠনে অভাব পড়েছে তরুণ নেতার। আজ যিনি সভাপতি কাল তিনি সম্পাদক। কাল যিনি সম্পাদক আজ তিনি সভাপতি। এই নীতিতে বিরক্ত এবিটিএ-র একাংশ সদস্য। তবে কি সংগঠনের নজর আটকে রয়েছে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতেই ? প্রশ্ন বিক্ষুব্ধদের।

এমনকি তাঁদের অভিযোগ, ” অতীতেও বহু সম্ভাবনাময় শিক্ষককে নেতা হিসেবে সামনে আনেনি সংগঠনের একটি গোষ্ঠী, তাঁরাই মূলত নিজেদের মৌরসী পাট্টা চালাতে নেতা নির্বাচন করেন। তাতে আখেরে সংগঠনের লাভ হলো কি ক্ষতি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারও।”

তৃণমূলের বহরমপুর শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় একসময় দাপিয়ে এবিটিএ-র হয়ে ঘুরেছেন জেলার এখানে সেখানে। তাঁঁরও সম্ভাবনা ছিল দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। কিন্তু সে পথে হাঁটার জটিল হিসেব নিকেশের মাঝখানেই দল বদলেছেন তিনি। দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। দলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা থাকায় আগামীদিনে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একটা বড় অংশ। আর তা এবিটিএ-র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেললে সংগঠনে সদস্য সংখ্যায় ঘাটতি পড়বে বলে অনেকের মত। যদিও সঞ্জয় এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চান নি। তিনি শুধু বলেন, ” তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনকে জেলায় ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। অন্যদিকে মন নেই।”

২০০৪ সাল থেকে ২০১২ সাল সংগঠনের মহকুমা সম্পাদকের দায়িত্ব সামলে জেলা নেতার দায়িত্ব পেয়েছিলেন দুলাল দত্ত। ২০২২ সালে তাঁকে সরিয়ে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সংগঠনের একাংশ সদস্যের দাবি, গত তিন বছরে সংগঠন পিছিয়ে গিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ বলেন, মেরুকরণের রাজনীতি রাজ্যকে এক ধাক্কায় পিছিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। শিক্ষাক্ষেত্রে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে কাঁটা, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতেই। তার প্রভাব পড়েছে সংগঠনে।

একইভাবে বাতিল শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ভরসা দিতে পারেনি এবিটিএ। তেমনি পুনর্বহাল হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদেরও বার্তা দিতে ব্যর্থ তাঁরা। শাসকের ভয়ে শিক্ষকরা পিছিয়ে বলে দাবি করলেও মুর্শিদাবাদে শিক্ষকদের একাংশের দাবি বিচারাধীন শিক্ষকদের প্রতি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ বাম নেতার বক্তব্য শিক্ষকদের এবিটিএ মুখী হতে বাধ সেধেছে। সংগঠনের প্রাক্তন সম্পাদক তথা সিপিএম নেতা দুলাল দত্ত অবশ্য বলেন, ” আমার সময়েও বিরোধীতা ছিল, গৌতমের সময়েও ছিল। জুলফিকার দা’র সময়েও থাকবে। কিন্তু আমাদের যৌথ নেতৃত্ব কোনওভাবেই কোনও সংগঠন প্রতিহত করতে পারেনি আগামীদিনেও পারবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights