
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ হুমায়ুন পরবর্তী অধ্যায়ে মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রচার করেই আগামী নির্বাচনে জনমত পক্ষে টানতে মরিয়া তৃণমূল। তৃণমূল যুব নেতার ডাকা বহরমপুরের জনসভা্র লক্ষ্যও ছিল সেদিকে। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের মন্ত্রী ও শহরের কাউন্সিলর একযোগে নিশানা করলেন বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকার ও তার দলকে।
ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল সাসপেন্ড করেছে দশ পেরিয়ে আজ এগারো দিন। কিন্তু তারপরের ধাক্কা সামলাতে তৃণমূলকে বেগ পেতে হয়েছে সেই হুমায়ুনের জন্যই। সারা দেশের সংবাদ মাধ্যমের শেষ আলোটুকু পর্যন্ত শুষে নিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক। নতুন দল ঘোষণা করবার আগে সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক দুটি জনসভা করেছেন কাপাসডাঙা ও বেগুনবাড়িত। কিন্তু সেখানকার ভিড় দেখে প্রমাদ গুনেছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতারা। নীরবে সয়েছেন হুমায়ুন বাক্য বাণ। দলকে বহিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে নিজেকে আর ‘ছোটো’ করার পথে হাঁটেন নি তৃণমূল নেতারা, দাবি হুমায়ুন পন্থী এক তৃণমূল নেতার ।
বহরমপুরে সেই নীরবতা ভাঙলেন তৃণমূলের যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার। তাঁর নিজের ডেরা বিটি কলেজ বটতলায় রবিবার শীতবস্ত্র দানের আড়ালে মানুষের মত জানতে সভা ডেকেছিলেন তিনি। রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী সেই সভায় ছিলেন প্রধান অতিথি। সভার আহ্বায়ক কিংবা অতিথি কারও মুখে এদিন ছিল না হুমায়ুনের কথা। উল্টে মেরুকরণের রাজনীতির দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়ে এদিন সন্ধ্যায় তাঁরা সম্প্রীতির পাঠ দিলেন উপস্থিত মানুষজনকে। কাপাসডাঙায় তাঁর জনসভায় শনিবার অবশ্য তৃণমূলকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন।
এদিন প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের বক্তব্যে মন্ত্রী একের পর এক সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরেছেন তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন, “এসআইআরের কাজ এতো অল্প সময়ে হয় না। বাংলার মানুষকে পরিকল্পনামাফিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে কেন্দ্র। আসলে কোনও উন্নয়ন না করে মানুষকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দেওয়া বিজেপি’র কৌশল।” হুমায়ুন প্রসঙ্গে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। রাজনীতিতে টিকে থাকতে আজ এ দল কাল অন্য দল করেন। আর মিডিয়ায় টিকে থাকতে বিতর্কিত কথা বলেন।”