
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বাড়ালেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আর ওই মঞ্চ থেকেই তাঁর প্রতি হওয়া তৃণমূলের বঞ্চনাকে তুলে ধরলেন লাখ খানেক মানুষের মাঝে। মুর্শিদাবাদের মাটিতে তৃণমূলকে রুখে দেওয়ার শপথও নিলেন সোমবার জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন। চেনা মুর্শিদাবাদকে অচেনা ঠেকছে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীরও। তিনি বলছেন, “সব গুলিয়ে যাচ্ছে।” বলেন, “ভারতবর্ষের সংবিধান মেনে কেউ কোনও রাজনৈতিক দল তৈরি করতেই পারে। কিন্তু বাবরি মসজিদের ভাবাবেগ থেকে একটা পার্টি তৈরি হওয়া এক জিনিস, সেখান থেকে ভোটে যাওয়া আর একটা জিনিস। এগুলো নিয়ে আগামী দিনে প্রশ্ন তৈরি হবে।”
তৃণমূলও আড় চোখে তাকিয়ে কৌতুহলে জানতে চাইছে, ” মাত্র ক’দিনেই এতো মানুষ হুমায়ুনের ডাকে হাজির হয়ে গেল বেলডাঙায়। তবে কি ক্ষেত্র প্রস্তুতই ছিল। সাসপেনশন শুধু ঘি এর কাজ করেছে এই মঞ্চ বাঁধতে?” হুমায়ুন বলছেন, ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই তিনি নতুন দল তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়। ২০১৯ সালে তিনি অবশ্য বিজেপিতে গিয়েছিলেন। ফিরেছিলেন ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে। এ তথ্য এখন ঠোটস্থ করে ফেলেছেন বাঙলার নতুন ভোটাররাও।
কিন্তু তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ কোন দলে? তিনি এখনও তৃণমূলের নেতা। বেলডাঙা ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। এদিন তাঁকে সেই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি এ ব্যাপারে কিছু বলবো না।সদ্য কংগ্রেসে যোগদান করেছেন জেলা পরিষদের সদ্য প্রাক্তন সদস্য শাহানাজ বেগম। এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে ডাকাবুকো শাহানাজ সাবধানে বলেন, “ এটা তো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” হুমায়ুন কবীর বলেন এর সঙ্গে ছেলের কোন সাথ নেই। আমি দল তৈরি করেছি কে দলে আসবে না আসবে তা ভবিষ্যত বলবে।”
রাজনীতির ইতিহাসে নতুন দল তৈরি করে পুরনো দলে ফিরে আসা নতুন নয়। মুর্শিদাবাদের ইতিহাসে পিতা পুত্রের দলবদলও নতুন নয়। প্রয়াত মান্নান হোসেনের আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন পুত্র সৌমিক হোসেন। পরে বাবাকে তৃণমূলে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বাহবা কুড়িয়েছিলেন সৌমিক। হুমায়ুন পুত্রের তৃণমূলে থাকা নিয়েও কৌতুহল জনমনে। হুমায়ুন ছেলেকে জনতার উন্নয়নে আনবেন না কি ছেলে ভবিষ্যতে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাবেন হুমায়ুনকে? শীতের এই প্রশ্নেই আগামী বসন্তের দিকে তাকিয়ে মুর্শিদাবাদ।