হুমায়ুন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা পুলিশের

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ও তার ছেলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য সহ ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করলো শক্তিপুর থানার পুলিশ। সরকারি কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অপরাধে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করেছে পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে। তাছাড়াও উভয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৮৬, ৩৩২, ৩৫৩,৩৪ ও ৩৪১ ধারা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে শক্তিপুর থানার পুলিশ।

সূত্রের দাবি, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একজন নিরাপত্তা রক্ষী পুলিশের কনস্টবল জুম্মা খানকে মারধর করেছেন হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবীন। হুমায়ুনের শক্তিপুরের বাড়িতে আজ ওই কনস্টবল যখন ছুটি চাইতে যান তখন হুমায়ুন ছুটি নাকচ করে দেন। তখনই তাঁকে রবীন মারধর করেছে। আর তা ঘটেছে হুমায়ুনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে। এই মর্মে শক্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন জুম্মা। লিখিত অভিযোগ পেয়ে সকালেই হুমায়ুনের বাড়ি যায় পুলিশ। ছেলেকে থানায় তুলে নিয়ে আসে বাড়ি থেকেই।

সেই খবর পেয়ে বহরমপুর থেকে শক্তিপুর থানায় দলবল নিয়ে হাজির হন হুমায়ুন। তার আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন এই জনপ্রতিনিধি। জানিয়ে যান, “বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্তব্ধ করে এসপি অফিস ঘেরাও করা হবে।” নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে হুমায়ুন দাবি করেন, “সবকিছু সিসি ক্যামেরায় ধরা আছে।” কিন্তু পুলিশ হুমায়ুনের শক্তিপুরের বাড়ি থেকে যে সিসি টিভির ফুটেজ পায় তা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশের সাইবার বিশেষজ্ঞরা। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজিদ ইকবাল বলেন, ” বাজেয়াপ্ত হার্ডডিস্ক ও ডিভিআর ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হবে কাল।”

দীর্ঘক্ষণ শক্তিপুর থানায় হুমায়ুনের সঙ্গে বেলডাঙার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক উত্তম গড়াই, ও জেলার দুই থানার আইসি পদ মর্যাদার দুই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে থানায় বসে জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে যুক্তি পাল্টা যুক্তিতে সরগরম হয় শক্তিপুর। বিকেলে কলকাতা যাওয়ার আগে থানা থেকে বেড়িয়ে হুমায়ুন পুলিশের প্রতি অবশ্য তাঁর আস্থা দেখান ও বলেন ” পুলিশ যা ব্যবস্থা নেবে তাই হবে।” সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, জামিন যোগ্য ধারায় পুলিশ মামলা রুজু করবে। আইনজীবী এসে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে বলেও সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাবি করেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন হুমায়ুন, পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

কিন্তু অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজিদ ইকবাল বলেন, ” দুজনের বিরুদ্ধেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ছেলেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।” থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় রবীনকে। কিন্তু জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা থাকা সত্বেও পুলিশ দুই জনপ্রতিনিধিকেই গ্রেফতার করেনি কেন? অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “যে ধারায় মামলা হয়েছে তার সাজা সাত বছরের কম। সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে অনুসারেই ছেলেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।” পুলিশের দাবি, কলকাতা থেকে ফিরলে হুমায়ুনকেও নোটিশ পাঠাবে পুলিশ।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী বলেন, “পুলিশকে মারধর করার অধিকার কারও নেই। তেমনি পুলিশেরও অন্যায় করে মারধরের অধিকার নেই। তাই পুলিশের গায়ে হাত তুললে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। সবটাই তদন্ত সাপেক্ষ। সত্য মিথ্যা আমরা জানি না।”

পুলিশকে হুমকি দেওয়া যদিও নতুন কিছু নয় হুমায়ুনের কাছে। নতুন দল গঠনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন  ‘বাংলার কোনও থানা যদি আমার নামে মিথ্যা মামলা করে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে থানার ইট খুলে নেব। পারলে আটকে দেখান।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights