
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁদের ভয় ভাঙাতে সম্বলপুর ছুটে গিয়েছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। রবিবার সেখানে গিয়ে অধীর বলেন, ” রুটি রুজির জোগাড় করতে গিয়ে আপনাদের যাতে কোনও বিপদে পড়তে না হয় তার জন্য আমরা চেষ্টা করবো। ” স্থানীয় প্রশাসন থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারে তো বটেই সেখান থেকেও কোনও সুরাহা না হলে পরিযায়ীদের জন্য ওড়িশার ভূমিপুত্র রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মুর কাছেও তিনি যাবেন বলে পরিযায়ীদের কথা দিয়েছেন অধীর।
বাঙালি হওয়ায় পরিযায়ীদের অকারণে হেনস্থা হতে হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। মুর্শিদাবাদের সুতির পরিযায়ী যুবক জুয়েল রানাকে কিছুদিন আগে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছে ওড়িশার একদল দুষ্কৃতির হাতে। সেই ঘটনায় আহত হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন আরও দুই যুবক। রুটিরুজির চিন্তা ছেড়ে প্রাণ হাতে বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরেছেন আরও অনেকেই। তাঁদের কেউ ফেরিওয়ালা, কেউ সাফাই কর্মী, কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন সেখানে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মজুরির হার কম থাকায় তাঁরা দু-পয়সা বেশি রোজগারের আশায় স্বজন ছেড়ে ছুটে গিয়েছিলেন ভিন রাজ্যে। বাংলায় এসআইআর আবহে এই বিপত্তি বেড়েছে বাংলার মুসলমানদের।
এদিন রাজ্যের প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর সম্বলপুরে কর্মরত বাংলার পরিযায়ীদের সঙ্গে দেখা করেন । তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা শোনেন। তাঁদের তিনি বলেন, ” আপনারা বিপদে পড়লে আমাদেরও খারাপ লাগে, দুশ্চিন্তা হয়। আপনারা আমাদেরই ঘরের ভাই, কেউ বন্ধু। আপনারা কেউ ভাবনেন না আপনারা একা।” প্রসঙ্গত করোনা কালেও রাজ্য তথা জেলার ভিন রাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী অধীর। এদিনও ওড়িশায় কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে তাঁর সামনে বাংলার শ্রমিকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা।