
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ কংগ্রেস নেতা শিলাদিত্য হালদার গোপন ডেরায় সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরে আসলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে যা নিয়ে জল্পনা ছড়ালো মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায়। যদিও মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন সভাধিপতিকে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” নওসাদের মতো নিরপেক্ষ বক্তা খুব কম দেখেছি বাংলায়। উনি বিজেপি আর তৃণমূলকে সমানভাবে আক্রমণ করেন। আবার মুখ্যমন্ত্রীকে কেউ কটূক্তি করলেও তিনি ছেড়ে কথা বলেন না।” আর সেই কারণেই তিনি শিলাদিত্যর খুব প্রিয় একজন নেতা। সুযোগ এসেছিল এক অনুষ্ঠানে তাই তিনি তাঁরসঙ্গে সাক্ষাৎ করার লোভ সামলাতে পারেন নি।
জেলায় জেলায় ব্যতিক্রমী শীতে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে রাজনীতি। তারমধ্যে এগিয়ে মুর্শিদাবাদ। পারদ পতনের নিরিখে সপ্তাহের প্রথম দিন যদি বছরের সেরা শীতলতম দিন হয় নবাবের জেলায় আজ তবে তা ব্যাকফুটে। মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও আজ নেই সংবাদ শিরোনামে। নওসাদের সঙ্গে দেখা করে সেই ব্যটন ধরলেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদার, দাবি রাজনীতি মহলে। অধীর চৌধুরীর সঙ্গে জেলা কংগ্রেসে এখন তাঁর কয়েক হাত দূরত্ব হলেও শিলাদিত্যের একচেটিয়া এজেন্ডা ভাঙা ‘হাত’ জোড়া লাগানোর। তিনি এখন বিধান ভবনের গা ঘেঁষে চলেন বলেই দাবি তাঁর বর্তমান সহকর্মীদের।
কি কথা হলো ভাঙড়ের বিধায়কের সঙ্গে ? শিলাদিত্য বলেন, ” বর্তমান রাজনীতি নিয়ে কথা হলো।” আর সেই আলোচনায় নিশ্চিত উঠে আসে বাবরি মসজিদ ও হুমায়ুন প্রসঙ্গ? গোপন না করে শিলাদিত্য বলেন, ” সে তো আসবেই। জ্বলন্ত ইস্যূ বলে কথা।” কি মনে হলো ? তিনি কি হুমায়ুনের সঙ্গে ভবিষ্যতে জোটে যাবেন ? “সেটা বলতে পারছি না। তবে আমি বলেছি হুমায়ুন হাওয়া নির্বাচন পর্যন্ত টিকবে না। উনি সে কথায় সহমত পোষণ করেছেন।”
রাজনৈতিক মহলের দাবি, বাংলায় ছাব্বিশের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। মেরুকরণের রাজনীতির ঠেলায় ময়দান থেকে ছিটকে গিয়েছে ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলি। তলায় তলায় নিজেরা নিজেদের খুঁজে নিয়ে জোটবদ্ধ হতে চাইছে নির্বাচনের আগে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। ২০২১ সালের নির্বাচনেও সেই জোট বজায় ছিলো। সেবার ধর্ম নিরপেক্ষ দল হিসেবে জোটের অংশীদার ছিল আইএসএফ। তৈরি হয়েছিল সংযুক্ত মোর্চা। যদিও নওসাদের দলকে জোটের সঙ্গী করায় এলার্জী ছিল অধীরের। আর এখন বামেদের সঙ্গে জোট চাইছেন না অধীরের উল্টো রাস্তায় হাঁটা শুভঙ্কর। তিনি নওশাদ চাইলেও তিনি নাকচ করেছিলেন প্রস্তাব। রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দিতে চেয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
কিন্তু সূত্রের দাবি, মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকটি আসনে আইএসএফের জনসমর্থন আছে, যা বাগড়া দিতে পারে কংগ্রেসকে। তাই কি নওসাদ সিদ্দিকির কাছে কৌশলে মুর্শিদাবাদের নেতাকে পাঠিয়ে উষ্ণতা মেপে নিতে চাইলেন শুভঙ্কর? শিলাদিত্য বলেন, ” এ ব্যাপারে বোঝার বা বলবার মতো নেতা আমি নই। আমাকে কেউ সেখানে পাঠায়ও নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি বলেন তবে আমি চাইবো আইএসএফের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হওয়া উচিত।”