
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ পেশার প্রয়োজনে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বেলডাঙায় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে নিগৃহিত হতে হয়েছে এক ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিককে। সাংবাদিক সোমা মাইতি ও চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতোর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। কিন্তু আতঙ্কের ছাপ এখনও তাঁদের চোখে মুখে স্পষ্ট। এই অবস্থায় বহরমপুরে জেলা সাংবাদিকরা মিলিত হয়ে তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবিতে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে স্মারকলিপি জমা দেন বুধবার বিকেলে।
বেলডাঙার সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও কারা কারা সেই ঘটনায় জড়িত তার খোঁজে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও-র সাহায্য নিচ্ছে পুলিশের সাইবার বিশেষজ্ঞের দল। রঞ্জিতের হারানো মোবাইলের খোঁজ মেলেনি আজও। টাওয়ার লোকেশন ধরে সেই খোঁজও শুরু হয়েছে বলে দাবি সূত্রের। তথাপি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের একাংশ ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে সম্প্রচার শুরু করায় বিভ্রান্ত হচ্ছে সমাজ, এমন দাবিতেও এদিন সরব ছিলেন প্রতিবাদী সাংবাদিকরা। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতেও সেকথার উল্লেখ করে প্ররোচনা ও কুৎসার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে। রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাও এই বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সুপার প্রতিনিধি দলকে বলেন, ” হাইকোর্টের বিশেষ সরকারি আইনজীবী ও সাইবার বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

সাংবাদিক সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষা মঞ্চের পক্ষে প্রাণময় ব্রহ্মচারীর ডাকে এদিন বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে একটি সভারও আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রাজ্যের শাসকদল বাদ দিয়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঘটনায় সংহতি জানাতে যেমন উপস্থিত ছিলেন তেমনি সাংস্কৃতিক জগতের একাংশও সমবেদনা জানাতে সাংবাদিকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন চৌতারায়। সকলেই এদিন ঘটনার নিন্দায় সরব ছিলেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী। একইসুরে বেলডাঙার ঘটনার নিন্দা করেন বর্তমান বিধায়ক সুব্রত মৈত্রও।
এদিন ওই মঞ্চেই জেলার প্রবীণ সাংবাদিক আলমগীর হোসেন জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের “সেন্টিমেন্টকে চিন্তাভাবনা করে প্রশ্ন করার” পরামর্শ দেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, ” নিজের কাজ নিজে করলেই ভালো হয়। ওঁদের কাজ ওঁরা ঠিকমতো করলে আমাদের এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে হতো না।” একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পলিসিরও সমালোচনা করেন ওই মঞ্চে।
বহরমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলমগীরও সংবাদ হাজারদুয়ারিকে ফোনে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের প্ররোচনামূলক সংবাদ প্রচারের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ” ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের একাংশ নিজেই সাংবাদিক, নিজেই সম্পাদক। ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।” তিনি এই ধরনের সংবাদ মাধ্যমের সরকারি স্বীকৃতিরও দাবি করেন। বলেন, ” আজকের দিনে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে অস্বীকার করবার উপায় নেই। কিন্তু এদের যাঁরা অসংগঠিতভাবে কাজ করছেন, তাঁরা স্বীকৃতি পেলে নিয়ম কানুনের আওতায় আসবেন, ফলে সংবাদ পরিবেশনের মানও ভালো হবে।”