
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ এনআইএ-র প্রতিনিধি দল যখন বেলডাঙার মাটি ছুঁয়েছে, তখনই মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের কাছে বদলির নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (পার্সোনাল)। তাঁকে রাজ্য পুলিশের এসএসআইবিতে(Superintendent of Police, Intelligence Branch) এ পাঠানো হয়েছে। আর এসএসআইবি থেকে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার করে আনা হল আইপিএস ধৃতিমান সরকারকে।
বেলডাঙা কান্ডের পরে এমনই সম্ভাবনার কথা ছড়িয়ে ছিল লোকমুখে, সমাজ মাধ্যমেও। সেই জল্পনা সত্যি করে এদিন পুলিশ সুপারের বদলির নির্দেশ এলো মুর্শিদাবাদে। একদিন আগেই রাজ্য সরকারের নির্দেশে আইজি হিসেবে মুর্শিদাবাদের দুই পুলিশ জেলার দায়িত্বে ফেরানো হয়েছে মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন পুলিশ সুপার মুকেশ কুমারকে। আর ঘোষণা হওয়া ইস্তক তাঁর ছবি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে, সমাজমাধ্যমে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যা নিয়ে সরগরম মুর্শিদাবাদের শাসকের অন্দর। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে জেলার দায়িত্বে রাখলেও নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর মুকেশকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
তবে এবার যেদিন তিনি দায়িত্ব নিলেন জেলার সেদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার তদন্তভার নিল এনআইএ। যা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করেছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের। অভিযোগ উঠেছে আইনকে বাইপাস করে যাঁরা সেদিন বিক্ষোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, তাঁদের দৌরাত্ম পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে। এদিন এনআইয়ের প্রতিনিধিদের হাতে বেলডাঙার সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনায় ধৃতদের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে । কাল আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ধৃতদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। ধৃতদের নিয়ে যাওয়া হতে পারে দিল্লিতে। আজ আদালতে ধৃতদের দুই আইনজীবী প্রীয়াঙ্কু শেখর দাস ও আবু বাক্কার জামিনের আবেদন করলেও তাঁদের জামিন নামঞ্জুর হয়। সরকারি আইনজীবী নীলাব্জ দত্ত বলেন, ” ১৩ জনের মধ্যে তিনজনকে ফের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক। আজকের পর এনআইএ ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করবে।”
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার প্রশ্নে পুলিশের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছে মুর্শিদাবাদ। ওই দিনই সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল বলে অভিযোগ করেছেন নিগৃহিত সাংবাদিক সোমা মাইতিও। পরেরদিনও একই ঘটনা ঘটে। সেদিনও সক্রিয় হতে পুলিশ সময় নেয়। এলাকায় ত্রাসের জন্ম নেয়। মামলা গড়ায় আদালতে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার ভার চাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। চাইলে এনআইএ কে দিয়ে কেন্দ্র তদন্ত করাতে পারে বলেও নির্দেশ দেন দুই বিচারপতির ডিভিসন বেঞ্চ। সেই দাবি মেনে নেওয়ায় রাজ্যের মুখ পোড়ে। মুকেশকে দুই পুলিশ জেলার ওপরে রেখে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে সরিয়ে মুখরক্ষার চেষ্টা করল সরকার। সূত্রের দাবি, একই ঘটনার জেরে বদলি হতে পারেন মুর্শিদাবাদের বর্তমান জেলাশাসকও।