
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ জিয়াগঞ্জে এসেছেন আমির খান। বিখ্যাত অভিনেতা এসেছেন আর এক বিখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিংহের বাড়িতে। তাই নিয়ে হইচই কম হচ্ছে না জেলায়। খ্যাতির বিড়ম্বনা বয়ে বেড়াচ্ছেন দু-জনেই। সেই আমির খান ও অরিজিতকে নিয়েই বিতর্ক বাঁধল এবার। গতকাল রানী ধন্যা কুমারি কলেজে নিশি রাতে হাজির নায়ক ও গায়ক। তাঁদের সঙ্গে ঢোকেন আরও অনেকে। সেখানে ইন্ডোর গেমস হলে ঘন্টা দেড়েক সময়ও কাটান দুজনে। ব্যাড মিন্টন খেলেন, শুটিং করেন। তারপর বেড়িয়ে যান তাঁরা। আর এই সবই করেছেন তাঁরা কলেজের অনুমতি না নিয়ে, কলেজের নৈশ্য প্রহরীকে ম্যানেজ করে। পুরো ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে কলেজের সিসি ক্যামেরায়।
কলেজ অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী স্পষ্ট ক্ষোভ জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে সেই ছবি পোস্ট করা ইস্তক তা ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। অরিজিতকে স্থানীয় গায়ক হিসেবে কটাক্ষ করে সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ” বিখ্যাত মানুষ বলেই কি তাঁরা সব করতে পারেন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবজ্ঞা করার মতো বিষয় ?” কিছুক্ষণ পরে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে অধ্যক্ষ সেই পোস্ট ডিলিট করে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। সূত্রের দাবি, জিয়াগঞ্জ থানা থেকে শুরু করে অরিজিতের ব্যক্তিগত সচিব, অনেকেই তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান, কেউ ঘুরিয়ে, কেউ সরাসরি। তারপরেও অধ্যক্ষ নিজের সিদ্ধান্তে অটুট ছিলেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মোদি-মমতাও যদি কলেজে আসেন তাহলে তাঁদের ও কলেজের অনুমতি নিতে হবে।”
তবে তাঁর অটল মানসিকতা টলিয়ে দেয় আরও একটি ফোন? হুমকি মেশানো শ্রদ্ধায় নির্দেশ আসে পোস্ট মুছে দেওয়ার। অবসরের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ অধ্যক্ষ এরপর মাথা নোয়াতে বাধ্য হন বলে জানা যায়। সূত্রের দাবি, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তৃণমূলের প্রাক্তন শহর সভাপতি অরুণ সাহা। কলেজের এক অস্থায়ী কর্মী তৃণমূলের যুব সভাপতি। তবে কি শাসকের ফোনেই বাধ্য হয়ে মাথা নোয়ালেন শিক্ষক ? মেলেনি অধ্যক্ষের উত্তর। অরুণ অবশ্য বলেন, ” কলেজে বিশ্ব বিখ্যাত দুই ব্যক্তি এসেছিলেন। তাঁরা অনুমতি নেননি এটা ঠিক কথা। অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল এটাও মানছি। কিন্তু তাই বলে ফেসবুকে পোস্ট না করলেই ভালো করতেন অধ্যক্ষ। ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে ওঁরা দুজন কলেজে লুকিয়ে চুরি করতে আসছে মধ্যরাতে। আমি তাঁকে সেই কথাটাই বলেছিলাম। তিনি বুঝেছেন বলেই হয়তো পোস্ট ডিলিট করেছেন।”

কিন্তু এখানেই থামেনি বিতর্ক। তারপরেও প্রশ্ন ওঠে আইন শৃঙ্খলার। কলেজ ক্যাম্পাস ব্যবহার করার জন্য অনুমতির প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যক্ষ। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আকালকর রাকেশ মহাদেব জানিয়েছেন পুলিশের অনুমতিও নেওয়া হয়নি। কিন্তু অরিজিতের বাড়ি থেকে কলেজ পৌঁছতে গিয়ে যদি ভক্ত সমাগমে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতো তাহলে কী হতো? সম্প্রতি কলকাতার মেসি কান্ড এখনও টাটকা জনমনে। এবার অবশ্য মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বলেন, ” সম্ভাবনার কোনও সীমা আছে না কি?” আইন শৃঙ্খলার অবনতির কথা অরুণ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমাদের অরিজিৎ একটু খামখেয়ালি ছেলে। ও নিজেকে বিখ্যাত বলে জাহির করে না। তবু অধ্যক্ষকে জানালে ভালো হতো।”