অস্তাচলে অরুণ,জেলার শিক্ষা জগতে শোকের ছায়া

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ জীবনাবসান হল মুর্শিদাবাদের শিক্ষা জগতের উজ্জল নক্ষত্র অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বছর দুয়েক ধরেই তিনি বার্ধক্যজনীত রোগে ছিলেন শয্যাশায়ী। শুক্রবার রাত ন’টা নাগাদ কলকাতায় একমাত্র মেয়ের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইংরেজীর শিক্ষক তথা প্রধান শিক্ষক অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বহরমপুর জে এন একাডেমি ছিল সমার্থক। শুধু মুর্শিদাবাদেই নয় তাঁর ছাত্র ও গুণমুগ্ধের সংখ্যা ছড়িয়ে আছে রাজ্য জুড়েই। তাঁর মৃত্যু সংবাদে জেলার শিক্ষা জগতে নামল শোকের ছায়া।

স্কুলের ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘাঙ্গী অরুণবাবু ১৯৮২ সালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে জেএনএকাডেমি স্কুলের ভোল বদলের চেষ্টা করেছিলেন। পড়ুয়াদের মনে বপণ করেছিলেন শিক্ষার বীজ। আজ তাঁদের অনেকেই মহীরুহ। তাঁর দু-চোখ ভরে ছিল ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্ন। স্কুল পরিচালনার জন্য নিত্য নৈমিত্তিক কাজে আজও বেদবাক্য মেনে তাঁর রাস্তাই অনুসরণ করেন বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষকরা। যাঁদের অনেককেই নিজে হাতে করে স্কুল শিক্ষকের পেশায় টেনে এনেছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত এই শিক্ষানুরাগী। নিজের কৃতিত্বে আক্ষরিক অর্থেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষা জগতের উজ্জল অরুণ।

শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় গোরাবাজার ঈশ্বর চন্দ্র ইন্সটিটিউটে। পরে জেলারই একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলে এসে ভার নেন বহরমপুর জেএনএকাডেমির। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। শূন্য থেকে শুরু করে স্কুলকে রাজ্যের অন্যতম সেরা স্কুলের তকমায় ভূষিত করে তিনি অবসর নিয়েছিলেন। মানুষ গড়ার কারিগর অরুণ বাবু ১৯৯৪ সালে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। স্কুল শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ” অবসর জীবনের পরেও তিনি অসুস্থ না হওয়া অবধি জড়িয়ে ছিলেন স্কুলের সঙ্গেই”

আমরণ তিনি ছিলেন বামপন্থায় বিশ্বাসী। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির প্রাক্তন জেলা সম্পাদক দুলাল দত্ত বলেন, ” তিনি নিজেই ছিলেন একটি ইনস্টিটিউট। তিনি স্বাধীনভাবে স্কুল পরিচালন করতেন। সেখানে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি আজও বহু মানুষের আদর্শ।” তৃণমূল শিক্ষা সেলের বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ” আমাকে খুব ভালবাসতেন । তাঁরই উৎসাহে আমার হিকমপুর জুনিয়র হাই স্কুলে যোগদান , সমৃদ্ধ হয়েছি তাঁর সঙ্গ পেয়ে।”

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষাকর্মী উৎপল মিত্র বলেন, ” আমরা হারালাম এক বটগাছকে। তিনি আমাদের খুব স্নেহ করতেন। বারবার আমাকে আর কল্যাণকে কলকাতায় ডেকেছিলেন। যাব ভেবেছিলাম। তার আগেই স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।” বিদ্যালয়ের বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক কল্যাণ ঘোষ বলেন, ” আজ বিদ্যালয়ে শোক প্রস্তাব রাখা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights