হকের দাবিতে সিলমোহর, খুশি কৃষ্ণনাথ কলেজের প্রাক্তনীরা

Social Share
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির প্রাক্তনীরা

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ” আমরা পথে পথে যাব সারে সারে/ তোমার নাম গেয়ে ফিরিব দ্বারে দ্বারে…” মূলত এই মন্ত্রকে পাথেয় করে লড়ে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনাথ কলেজের প্রাক্তনীরা। অবশেষে হকের দাবিতে সিলমোহর দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় নাম বদলে মুর্শিদাবাদ মহারাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্ত্রীরা। খুশি প্রাক্তনীরা। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানালেন রাজ্য সরকারকে। ধন্যবাদ জানালেন তাঁদের লড়াইয়ের সাথী জেলাবাসী থেকে দলমত নির্বিশেষে জেলার জন প্রতিনিধিদেরও।

জেলায় এক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজা কৃষ্ণনাথ। তাঁর দানের জমিতে রাজার নামেই ছিল কলেজ। সেই কলেজের সম্পত্তিতেই ২০১৮ সালে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা হয়। স্বপ্ন সফল হয় কৃষ্ণনাথের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে তাঁর নামই বাদ! কলমের একটি খোঁচায় মুছে যায় ১৭৫ বছরের কৃষ্ণনাথ কলেজও। মূহুর্তে স্মৃতি হয়ে যায় মাস্টারদা সূর্য সেন, নলিনী বাগচী, ঋত্বিক ঘটকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু জেলা নয়, দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাক্তনীর কাছে যা কার্যত ছিল যন্ত্রণার। কলেজ হিসেবে না ফিরুক, অন্ততঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে জুড়ে থাকুন কৃষ্ণনাথ। এই দাবিতে আজ জেলাশাসক, তো কাল কোনও দফতরের সচিব, আজ বিধায়কের দ্বারে তো কাল মন্ত্রীর দ্বারে।

সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির দেবজ্যোতি বিশ্বাস, হিমাদ্রী নারায়ণ সাহা

আজ বহরমপুর তো কাল কলকাতা ছুটে ছুটে চলে গিয়েছেন দেবজ্যোতি বিশ্বাস, হিমাদ্রী নারায়ণ সাহা, স্নিগ্ধা সেন, অসীম রায়, অপূর্ব সাহা, তারিক রসুল, মিতাব্র ধরগুপ্ত, দেবাশিস সেনগুপ্তদের মতো প্রাক্তনীদের একাংশ সহ কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপকদেরও একাংশ। সেই পথে তাঁদের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছেন আরও কত প্রাক্তনী, কত বিশিষ্টজন, কত সাধারণ মানুষও। লম্বা হয়েছে দাবিদারদের তালিকা। সমান তালে পাল্টা তাল ঠুকেছেন সমাজেরই একাংশ। তারমধ্যেই কখনও আশার আলো তো কখনও হতাশার অন্ধকারে দোল খেয়েছে দাবি। গত আট বছরে প্রয়াত হয়েছেন কত বিশিষ্টজন, প্রাক্তনীও। অবশেষে জয় এসেছে।

শনিবার সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু যখন ঘোষণা করছেন নাম পরিবর্তনের কথা তখনই তা ভাইরাল সমাজমাধ্যমে। কেন এই নাম পরিবর্তন তারও ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী। প্রাক্তনীর সম্পাদক দেবজ্যোতি বিশ্বাস, সভাপতি হিমাদ্রী নারায়ণ সাহা সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ” এই জয়ের কৃতিত্ব সব জেলাবাসীর, প্রাক্তনীর, এমনকি কৃষ্ণনাথ কলেজ পরিচালন কমিটিরও, তাঁরাও চেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে জুড়ে থাক কৃষ্ণনাথের নাম। ধন্যবাদ সকলকে।” রাজা কৃষ্ণনাথের দানেই তৈরি হয়েছিল বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরও বড় এই কলেজ। এদিন প্রাক্তনীদের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনাথ কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপকদের একাংশও। প্রাথমিক জয় এসেছে, দাবি পূরণ হয়েছে জানিয়ে প্রাক্তন অধ্যাপক পার্থসখা বসু বলেন, ” আজ আমার কাছে আনন্দের দিন। কিন্তু নাম পরিবর্তনে সব কিছু হবে বলে মনে হয় না। আমি চাই এই কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছেলেমেয়েরা যাতে ভবিষ্যৎ জীবনে সঠিক পথে পরিচালিত হয়ে সঠিক জায়গায় যেতে পারে সেই রকম শিক্ষাব্যবস্থার মানটাকে উন্নয়ন করা দরকার।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights