
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারও বিতর্কিত থেকে গেল। আজ বৃহস্পতিবার ছিল অঙ্ক পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষায় সিলেবাস বহির্ভূত দশ নম্বরের প্রশ্ন এসেছে। প্রেস বিবৃতি দিয়ে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে সংসদ।
এবারই প্রথম সিমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে রাজ্যে। সেই পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রথম থেকেই সরব শিক্ষক মহলের একাংশ। গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার তৃতীয় সিমেস্টারের পদার্থ বিদ্যা প্রশ্নের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ওই বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যাও বেশি। এবার অঙ্ক বিষয়েও এলো সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন। সূত্রের দাবি, সিলেবাস বহির্ভূত তিনটি প্রশ্ন এসেছে অঙ্কে। ২B, ১১B আর ১১C। পরীক্ষার্থীদের সকলের কাছেই যে প্রশ্ন তিনটি কঠিন বা সিলেবাস বহির্ভূত বলে মনে হয়েছে বিষয়টি তেমন নয়। কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের ছাত্র সোহন সরকার বলেন, ” প্রশ্নগুলি সিলেবাসের বাইরে তা আমার জানা ছিল না। আমি পরীক্ষায় করে এসেছি। ” আর এক পরীক্ষার্থী অনির্বাণ দত্তও বলেন, ” ওই প্রশ্নের সমাধান করতে গিয়ে আমার অনেকটা সময় চলে যাওয়ায় পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি।”
বহরমপুর শ্রীগুরু পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালায়ের অঙ্কের শিক্ষক সঞ্জয় দাস বলেন, ” এর দায় যিনি ওই প্রশ্ন করেছেন সেই শিক্ষকের নাও হতে পারে। কারণ সংসদ বারবার সিলেবাস বদলায়। এই বদলে যাওয়া সিলেবাস সম্পর্কে হয়ত যিনি প্রশ্ন করেছেন তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন না।” তিনি দাবি করেন, ” গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় যিনি প্রশ্ন পত্র তৈরি করেছেন তাঁর আরও বেশি দায়িত্ববান হওয়া ও সজাগ হওয়া উচিত ছিল।”
পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সংসদ বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের পরামর্শ নেয় জানিয়ে সংসদ সভাপতি বলেন, ” যাঁরা ওই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, সকলকেই পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।” যাঁরা ওই প্রশ্ন ছেড়েছেন তাঁদেরকেও সমান নম্বর দেওয়ার দাবি তুলেছেন মুর্শিদাবাদ জেলা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার যুগ্ম আহবায়ক সুদীপ সিনহা। তিনি বলেন, ” প্রশ্নের ব্যাপারে আরও সতর্ক হওয়া উচিত সংসদের। অনেক পরীক্ষার্থী ওই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা নম্বর পাবেন ঠিকই কিন্তু আমরা বলছি যাঁরা কঠিন বলে ছেড়ে দিয়েছেন প্রশ্নগুলি তাঁদেরও নম্বর দেওয়া উচিত। আশাকরি সংসদ এব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা নেবে বলে আশা করি।”