দোল উৎসবে রাঙা বহরমপুর, ঠেকানো যায়নি অপ্রীতিকর ঘটনাও

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বছর চারেক ধরে কৃষ্ণনাথ কলেজ ঘাট (অধুনা বিশ্ববিদ্যালয়) চত্বরে রঙ উৎসবের আয়োজন করছেন একদল যুবক। সেখানে ভিড় করে আসেন শহর ও তার আশপাশের তরুণ তরুণীরা। ডিজের তালে তাল মিলিয়ে নেচে গেয়ে তাঁরা দলের আনন্দ উদযাপন করেন। বলা বাহুল্য তা নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ যেমন নেই, তেমনি এবারও কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি সেখানে। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় এলাকার কাউন্সিলরকে নিয়ে সেখানে হাজির ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি দোলের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সম্প্রীতির বার্তাও দেন। তবে এই জমায়েতের জেরে কলেজ ঘাট এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয়। পুলিশ থাকলেও ভিড় ছিল অনিয়ন্ত্রিত।

দোল উৎসবের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনও শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র ছিল উৎসবের মেজাজ। রমযান মাসে সম্প্রীতির শহর বহরমপুর ছিল সংযমেই। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে যদিও শহর জুড়ে টহল ছিল পুলিশের। কিন্তু দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বহরমপুরে এবারও মারামারি, পথ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। দু-একটি ঘটনায় এই উৎসবের মেজাজে রক্তের দাগ লাগিয়েছে বহরমপুর।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন টাউন ওসি সুদীপ চক্রবর্তী

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাদাই পিয়াসির গলিতে পুরনো ঝামেলা থেকে দু-দলের মধ্যে বচসা শুরু রঙ খেলার মধ্যেই। বচসার গড়ায় হাতাহাতিতে। এক যুবককে ছুরি দিয়ে আঘাত করে মধ্যবয়সী আর একজন। পাল্টা আঘাতে আহত হয় অন্যপক্ষও। খবর যায় বহরমপুর থানায়। ছুটে আসেন ডিএসপি সুশান্ত রাজবংশী, বহরমপুর থানার আইসি সুদীপ সিং, টাউন ওসি সুদীপ চক্রবর্তী। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে আহত দু’জনেই চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। উভয় পক্ষই মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

একইভাবে মারামারির জেরে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন তপন সর্দার নামে এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি রাধারঘাট এলাকায়। পরিবারের দাবি, পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় তপনের। তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। যদিও সূত্রের দাবি, এলাকায় পুরনো বিবাদের জেরে প্রতিবেশীর সঙ্গে হাতাহাতির জেরে তপনের মাথা ফেটে যায়। যদিও পুলিশের খাতায় কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভিড় বাড়তে থাকে বিকেল থেকেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অন্তত বিশ জনকে চিকিৎসা করা হয়েছে। তাঁদের কেউ হয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন না হয় প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights