
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ চেনা চিত্রনাট্য ফের মঞ্চস্থ হল শহর বহরমপুরে। আর বহরমপুর মানেই যে অধীর চৌধুরী, ফের তা প্রমাণ করল তৃণমূলই। শনিবার অন্যদিনের মতো বহরমপুরে প্রচারে বেড়িয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর এদিন প্রচার ছিল ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে। সেই ওয়ার্ডে গিয়ে তাঁকে শুনতে হল ‘জমানা বদলে গেছে।’ আর তা শুনতে হল তৃণমূলের নয়া প্রজন্মের কাছে। এর আগে লোকসভা নির্বাচনেও ঘটেছিল একই ঘটনা। যদিও তা ছিল অন্য ওয়ার্ডে।
ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের ভীষ্মদেব কর্মকার। যিনি আবার তৃণমূলের যুব দলের বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি। পরিবর্তনের জমানায় বহরমপুরের কানা গলিতে দাঁড়িয়ে সৌমিক হোসেনের প্রাক্তন শিষ্য ভীষ্মদেব একবার হাতে তালি দিলে মুহূর্তে জুটে যায় তাঁর হাজার শাগরেদ। এমন কথা জানা ছিল পুলিশ প্রশাসনেরও। সেই ভীষ্ম এদিন যেন ফাঁদ পেতেই ছিলেন রাস্তায়। সেই ফাঁদে পা না দিয়ে উপায়ও ছিল না কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের। দুই দল এক রাস্তার ভাগ নিতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। দু-পক্ষের নেতা কর্মী সমর্থকদের মুখ নিঃসৃত অপশব্দে কান চাপা দিল পুরনো বহরমপুর। অধীরও বিরক্ত হলেন। ভীষ্মদেব বললেন, ” ওঁর দিন শেষ। ওঁকে জানোনোর ছিল নতুন সূর্য নাড়ুগোপালের পথ চলা আর কয়েকদিনের ব্যপার। আমাদের ছেলেরা সেটাই করেছে আজকে।”
বহরমপুরের তৃণমূল সংগঠনের একটু আধটু খবর যাঁরা রাখেন তাঁরা জানেন পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল ও কাউন্সিলর ভীষ্মদেবের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা। কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনে ভোট বেশি পেয়েছিল শহর বহরমপুরে। আর ভীষ্মদেবের নেতৃত্বে বহরমপুরে তৃণমূল সবথেকে ভোট বেশি পেয়েছিল ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে। দলের ভরসা পেয়েছিল, সেবার ‘দাদা’ নাড়ুগোপালের অভিমান হয়েছিল। সেই অভিমান কাটাতেই ভীষ্মদেব এবার পণ নিয়েছে নাড়ুগোপালকে জেতানোর। সে কথা জানিয়ে এক ভীষ্মদেব অনুরাগীর দাবি, ” আমাদের সঙ্গে পাঙ্গা লড়তে কি আর এখনকার কংগ্রেস পারে ? তাছাড়াও নাড়ুদা’র কাছে নম্বরটা ভীষ্মকে বাড়াতেই হোতো। ও ছোটো একটা ঠেলা দিল তাতেই কংগ্রেস হেলে গেল দেখলেন না?”
ভোটের প্রচার শুরু হওয়া ইস্তক অধীর আর নাড়ুগোপালের টিমের একের পর এক ঘটনায় বিজেপির কাছ থেকে প্রচারের আলো সরে গিয়েছে। যদিও জীতেন সাহা কান্ড, পরে রাজু কান্ডে তৃণমূল বহরমপুরে এখনও অধীর চৌধুরীকে টেক্কা দিতে পারেনি। ভোটারকে হুমকি দেওয়ার অপরাধে বহরমপুর থানা ঘুরিয়ে এনেছেন তাঁকে সেই কংগ্রেসই। রাজু ছাড়া পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু জিতে গিয়েছে কংগ্রেস, বলছেন শহরবাসী। মান বাঁচাতে দলের পয়েন্ট বাড়ানোর ছিল। সেই কাজটাই ভীষ্মদেব করেছেন এদিন। নাড়ুগোপালও যে ভাইয়ের কৌশলে খুশি তা বোঝাতে দেরি করেননি বিন্দুমাত্র। সংবাদমাধ্যমের সামনে উত্তেজিত নাড়ুগোপাল অধীরের কাছা খুলে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন। যা শুনে টিপ্পনী কাটতে ছাড়ছেন না নেটাগরিকরা।
আর এইসব শুনেটুনে বহরমপুরের এক পুরনো কংগ্রেস সমর্থক হাত তুলে ডেকে বললেন, ‘ভোটের রঙ্গে যা দেখছি এ বঙ্গে এসবই নতুন লাগে। কে যে কার ভোটার, প্রার্থীও জানে না। জনপ্রিয়তায় শুধু অধীরদাই একই আছেন যা ছিলেন ৩০ বছর আগে। এছাড়া কী বলি বলুন তো’