জেলা কংগ্রেসের সুপারিশে কান দিল না রাজ্য

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ কংগ্রেস নির্বাচনে জিতে এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বদলে ‘দুর্গা সম্মান’ দিতে চায় বঙ্গ নারীকে। আর দেড় হাজারের বদলে দু হাজার টাকা। কারা পাবেন? ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীরা। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কেন্দ্রীয় নেতা জয়রাম রমেশ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রাক্তন সাংসদ ও দলের প্রবীণ নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে যে ইস্তেহার মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে সেখানে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষার জন্যও রয়েছে প্রতিশ্রুতি। দলের ওই কর্মসূচিতে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে উপস্থিত ছিলেন দুই চরম অধীর বিরোধী মুখ শিলাদিত্য হালদার ও হাসানুজ্জামান বাপ্পা। যাঁরা ইস্তেহার কমিটির সদস্যও। প্রাক্তন বিধায়ক ফিরোজা বেগম এই দলের সদস্য থাকলেও তিনি অবশ্য যাননি। তবে নির্বাচনকে ঘিরে দলের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষ নিয়ে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে দ্বিধাগ্রস্থ কংগ্রেসের নিচু তলার কর্মীরা।

মুর্শিদাবাদ, আলিপুরদুয়ার, মেদিনীপুর যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ চরম আকার নিয়েছে। সর্বভারতীয় নেতা অধীর চৌধুরীর জেলা মুর্শিদাবাদেও তুষের আগুন আজ দাবানলে পরিণত হয়েছে। জেলার উত্তর থেকে দক্ষিণ যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীদের। তাঁদের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছেন প্রদেশের দায়িত্ববান নেতারাও। চলতি বছর নির্বাচনে দাগ রাখতে প্রায় বিশ বছর বাদে রাজ্যের সব কটি আসনে এককভাবে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু মানুষের মনের বদলে দলের গায়ে গোষ্ঠী বিবাদের দাগ লেগে যাওয়ায় ভোটের বাক্সে শূন্য প্রাপ্তির আশা করছেন দলেরই বিক্ষুব্ধরা। তাঁদের দাবি, ” আশা ছিল এবার আমরা ভাল ফল করবো। কিন্তু নেতারা টাকার বিনিময়ে দলের প্রতীক বিকিয়ে দেওয়ায় আমাদের জেতার আশাও ডুবে গিয়েছে।” সেই কারণে মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের একটা বড় অংশ ভোটে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আর একটা অংশের দাবি, ” আমরা বিক্ষুব্ধ, আমাদের বুকে যন্ত্রণা আছে, আমরা শাসকদলের ডাক উপেক্ষা করেও হাত ছাড়িনি এখনও। কারণ আমরা জাতীয় কংগ্রেসের সৈনিক। আর তাই দল যাঁদের প্রার্থী করেছেন তাঁরা অপছন্দের হলেও কংগ্রেসের জন্য ভোট চাইতে মানুষের কাছে যাব।” সেই কৌশলেই অধীর চৌধুরী মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে একগুচ্ছ গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ছিলেন শিলাদিত্য। আবার বিক্ষুব্ধদের এড়িয়ে জেলা কংগ্রেস কার্যালয় থেকে কয়েক পা দূরত্বের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে সাগরদিঘির জন্য মনোনয়ন জমা দিয়ে এসেছেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী। তাঁর প্রার্থী পদের বিরোধীতা করে রাস্তায় নেমেছিলেন হাসানুজ্জামান। তিনি আবার প্রদেশের মুখপাত্র। তাঁর শাস্তি চেয়ে মনোজ দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র পবন খেরাকে চিঠি দিয়েছেন। সূত্রের দাবি সেই চিঠি খেরা রাজ্যের দায়িত্বে থাকা গোলাম মীরকে পাঠিয়ে বিষয়টি দেখতে বলেছেন। মীর তা রাজ্যের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সভাপতি দেবপ্রসাদের কাছে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকে এখনও বিক্ষুব্ধ নেতাকে কিছু জানানো হয়নি বলেই দাবি সূত্রের।
একইরকমভাবে শিলাদিত্য হালদারের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি তুলে সংবাদ মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন জয়ন্ত দাস। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে সেই দাবি সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কানে তোলা হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। আর এসবের মাঝেই সর্বভারতীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে দলের ইস্তেহারে জেলার জন্য ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি রেখে এলেন শিলা, বাপ্পারা। তাঁরা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ রূপদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভাবতায় অধরা মহিলা কলেজ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিড়ি শ্রমিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরির কথা ইস্তেহারে লেখা হয়েছে বলে জানান শিলাদিত্য। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের বিক্ষুব্ধ এই দুই নেতা রোহন মিত্রের মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার মিছিলেও পা মিলিয়েছিলেন কলকাতায়।