সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ অবসরপ্রাপ্ত দুই আইএএস অফিসার জ্ঞানেশ কুমার এবং সুখবীর সিং সাধুকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে বেছে নিল সরকার। নিজে মুখে এই দুই আধিকারিকের নাম ঘোষণা করলেও কমিশনার বাছাই করা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লোকসভার প্রধান বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “এক রাতে ২১২টি নাম পাঠিয়ে তার মধ্যে থেকে দুজনকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল। রাত বারোটায় দিল্লি এসে আজ বেলা বারোটায় বৈঠকে অংশ নেওয়ার মাঝে সেই তালিকা পড়ে দেখবার সুযোগ পাইনি।”
তবে নিয়মরক্ষার জন্যই যে তাঁকে ডাকা হয়েছিল বৈঠকে ক্ষোভের সঙ্গে তাও জানান বহরমপুরের সাংসদ। বৈঠকের মিনিট দশেক আগে তাঁকে ছ’জনের নাম ধরিয়ে দিয়ে বলা হয় দু’জনকে বেছে নিতে। তাঁর মতামতের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন অধীর। তিনি বলেন, ” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতির থাকার কথা বৈঠকে তিনি ছিলেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যা খুশি তাই করতে পারে। সেটাই হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন। সেখানেই এই দুই আমলাকে বেছে নেন তাঁরা । ওই বৈঠকে পদাধিকার বলে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তম বিরোধী দল কংগ্রেসের লোকসভার নেতা বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীও। বৈঠক থেকে বেড়িয়ে অধীর তাঁদের নাম ঘোষণা করেন। যদিও সরকারিভাবে এখনও দুই নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষণা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও বাছাই সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ।
একজনকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ তিনজন নির্বাচন কমিশনার থাকে কমিশনে। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অনুপ চন্দ্র পান্ডের অবসর এবং সম্প্রতি অরুণ গোয়েলের পদত্যাগের কারণে নির্বাচন কমিশনে দুই নির্বাচন কমিশনারের পদ শূন্য ছিল। স্বাভাবিকভাবেই একলা দায় সামলাচ্ছিলেন রাজীব কুমার। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তাই তড়িঘড়ি বেছে নেওয়া হল দুই নির্বাচন কমিশনারকে।