
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ শ্যাম রাখি না কূল রাখি। সিপিএমের অবস্থা এখন তেমনই। প্রাক্তন জোট সঙ্গী অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে না কি মতাদর্শগতভাবে ফারাক থাকা সিপি(আই)এমএল? কার পক্ষে থাকবে ভোট ? সিপিএমের নিচুতলার কর্মীদের একাংশ চাইছে অতীত ভূলে কংগ্রেসকে ভোট দিতে। অন্যপক্ষ অনড় বামফ্রন্টের শর্ত খেলাপে। আর তাই নিয়ে বেশ কয়েকদিন দলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল জেলায়। একাংশ সিপিএম নেতা এদিন দাবি করেন, ” জেলায় বেশ কয়েকটি আসনে কংগ্রেস আমাদের মূল প্রতিপক্ষ। দুই দলের সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। তখন আমরা বহরমপুরে আমাদের ভোট কংগ্রেসকে দিতে যাব কেন?”
রাত পোহালেই শুরু বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। কাল প্রথম দফা। আর এই দফাতেই মুর্শিদাবাদেরও নির্বাচন। সেই নির্বাচনে সারা বাংলার নজর কেড়েছে বহরমপুর। এখানে প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে নেমেছেন তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় আর বিজেপি’র সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে। আর সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে সিপিআইএমএল। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। বহরমপুর বিধানসভায় সিপিএম ও আরএসপির ভোটার মিলিয়ে সংখ্যাটা বিশ হাজারের আশেপাশে। আর সেই ভোট নির্বাচনে নির্ণায়কের ভূমিকা নিতে পারে, যদি বামেরা নিজেদের প্রার্থীকে না দিয়ে কংগ্রেস বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে সেই ভোট দেয়।
কিন্তু ভোট প্রচারে এসে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বামফ্রন্টের মধ্যে কৌশলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করেন মুর্শিদাবাদে। প্রকাশ্য জনসভায় তিনি দাবি করেন, ” অধীর চৌধুরীকে সমর্থন দিতে সিপিএম বহরমপুরে প্রার্থী দেয়নি।” আরএসপি’র অভিরূপ বিশ্বাস বলেন, ” কংগ্রেস আর সিপিএম সেটিং করে আরএসপিকে এই আসন এবার ছাড়েনি বামফ্রন্ট।”
সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি সদস্য সন্দীপন দাস এদিন বলেন, ” বামফ্রন্ট যে সিদ্ধান্ত নেয় সেই সিদ্ধান্ত আমরা সবাই মেনে চলি। আর এটাই দস্তুর। যেদিন বামফ্রন্ট কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছিল, সেদিনও কর্মীরা তা মেনে নিয়েছিল। এবারও যে সিদ্ধান্ত বামফ্রন্ট নিয়েছে সেই সিদ্ধান্ত মেনে সিপিআইএমএলকেই আমাদের কর্মী সমর্থকরা ভোট দেবেন। এখানে অন্য কোনও দলকে ভোট দেওয়ার মানে নেই। এসব বলে তৃণমূল আর বিজেপি মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ”
সন্দীপন রাজনৈতিক বা কৌশলগত ভাবে সে কথা বললেও একাংশ বাম নেতার দাবি, ” যদি তাই হয় তাহলে বহরমপুরে বামফ্রন্টগতভাবে প্রার্থীর সমর্থনে একটা মিছিল গ্রাম শহরে হাঁটেনি কেন ?” সন্দীপন বলেন, ” একটা ঠিক প্রচারে ঘাটতি ছিল। লিবারেশনের উদ্যোগ নেওয়াতে একটা ঘাটতি ছিল। তবে মিছিল হয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। এই দূর্বলতা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা হবে না। পার্টির লাইন মেনেই ভোট কাশেম দা’কেই দেবেন কর্মীরা।”