
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ কথা দিয়ে কথা রাখতে পারল না নির্বাচন কমিশন। বদনাম ঘোচাতে পারল না মুর্শিদাবাদও। ভোট উৎসবে শামিল নওদার নাম শুনলে এখন থেকে ভ্রু কোঁচকাবে বাকি বাংলা। অথচ কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে জেলায় ভোট প্রদানের হার ৯৩.২১ শতাংশেরও বেশি, যা এ যাবৎ সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে এই বিধানসভায় ভোট পড়েছিল ৮৭.১৭ শতাংশ।
জেলার নাম মুর্শিদাবাদ। তার এক মহকুমার নাম ডোমকল। গুলি বারুদের স্তুপ বলে এই বিধানসভার নাম রয়েছে রাজ্যে। সেখানকার সাধারণ মানুষ অশান্তির আঁচ পেয়েছিলেন ভোটের আগের দিন রাতেই। প্রশাসনও টের পেয়েছিলেন বুধবার রাতে। ওইদিন ডোমকল ব্লকের রায়পুর অঞ্চলের সর্দারপাড়ায় সিপিএম ও তৃণমূলের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয় তিনজন। আর ভোটের দিন তৃণমূলের শাসানির চোটে ভয় পেয়ে ঘরেই সিঁধিয়ে যান এলাকার মানুষ। সংবাদমাধ্যমের সহায়তায় পরে অবশ্য তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন বলে খবর।
ওই ডোমকলের রাস্তা ধরেই বোমাবাজির ঘটনা ঘটে নওদাতেও। সেই বুধবারেই। আর বৃহস্পতিবার ভোটের দিন সেখানে যা ঘটল ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার দৌলতে তা পৌঁছে গেল বাংলার ঘরে ঘরে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর আর তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান শেখের মধ্যে বেঁধে গেল মল্লযুদ্ধ। জেলায় মোতায়েন ছিল ৩০৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, পাছে না কোনও বিপদ ঘটে। অথচ নির্বাচন কমিশনের সেই বর্জ আঁটুনিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিধি ভাঙল নওদা।
আর সেখানকার অবস্থা দেখে বহরমপুরের বাসিন্দা সরূপ দাস, অপূর্ব চক্রবর্তী, বৈশাখী পান্ডেরা অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিকে। তাঁদের অভিযোগ, ” নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে রাস্তায় রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিয়েছিল কতকটা পূজোর আগে ঢাক বাজানোর মতো। অথচ ভোটের দিন বুথের ছায়ায় ছায়ায় থাকলেন তাঁরা। রাস্তা থাকল শুনশান। অথচ সেখানেও তো বিপদ ওৎ পেতে থাকতে পারত ?”
অথচ গা জ্বলা গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকেই জেলার বুথে বুথে ছিল লম্বা লাইন। কোথাও মানুষের চোখে মুখে ভয়ের ছিটে ফোঁটাও ছিল না। মানুষ একেবারে নিয়ম মেনে ইভিএম পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছেন। বেলা যত বেড়েছে ছাতা মাথায় দিয়েও মেনে নিয়েছেন রোদের তীব্রতা। কোনওরকম বাধার সম্মুখীন হননি কেউ। বিকেলে যখন ভোটারদের আনাগোনা কমে এসেছে বুথে সেই সময় বহরমপুরে কুঞ্জঘাটার কাছে পীরতলায় কংগ্রেসের এজেন্টকে মারধরের অভিযোগে সরব হন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আর সেখানে ছেলে মনোরঞ্জনকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তাঁর বাবা বিষ্ণু সরকার। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর। আবার এই কংগ্রেসই ভরতপুরের দশটি বুথে তাঁদের এজেন্টকে বসতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুননির্বাচনের দাবি তুলেছে । তাছাড়া এই লেখা প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনও বুথ দখলের খবর আসেনি জেলার না উত্তর থেকে না দক্ষিণ দিক থেকে। ব্যতিক্রম মাত্র দুটি বিধানসভা।