
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ উত্তেজিত জনতা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে হাত তুলছে, তাঁকে লক্ষ্য করে ছুটে আসছে কিল, চড়, ঘুঁষি। একটুকরো সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায় (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ হাজারদুয়ারি)। ইতিমধ্যে রাজ্য জুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে শনিবারের বিকেল। অথচ এই ঘটনায় কোনও সাড়া নেই মুর্শিদাবাদ জেলায় অভিষেক অনুগামীদের।
নির্বাচনের পর কেটে গিয়েছে পঁচিশ দিন। ভোট পরবর্তী হিংসার খবরও হয়েছে রাজ্যের একাধিক জেলায়। কোথাও আহত হয়েছে্ন, কোথাও নিহত হয়েছেন তৃণমূলের কর্মীদের কেউ কেউ। তৃণমূল আঙুল তুলেছে বিজেপির দিকে। এদিন দলের সেই কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে বাড়ি থেকে রাস্তায় বেড়িয়েছিলেন অভিষেক। প্রথমে বেলেঘাটায় পরে সোনারপুরে নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যান তিনি। যাওয়ার পথে তাঁকে লক্ষ্য করে গো-ব্যাক শ্লোগান দেওয়া হয়। এদিন অবশ্য অভিষেকের সঙ্গে ছিল না বিরাট কনভয়। ছিলেন না তাঁর অনুগামীরাও। সূত্রের দাবি, বাইক করে সঞ্জুর বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথেই তাঁকে ঘিরে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানেই তাঁরা সাংসদের উপর চড়াও হয় বলে দাবি।
অথচ আশ্চর্যজনকভাবে চুপ মুর্শিদাবাদে অভিষেক অনুগামীরা। কোথাও কোনও প্রতিবাদের টুঁ শব্দ নেই। নেই সেই চেনা রাস্তা অবরোধের ছবি। নেই সেই যুবনেতাদের হুঙ্কার। শুনশান শহর বহরমপুরও। অথচ এই শহরেই ঘটা করে উদযাপিত হয়েছে অভিষেকের জন্মদিন। এদিন বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকারকে একাধিকবার ফোন করেও মেলেনি উত্তর। জেলা পরিষদের সদস্য অশেষ ঘোষও ফোন ধরেননি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ” এমন কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি দলের পক্ষ থেকে।”
তৃণমূল জমানায় এই দৃশ্য কখনও দেখেনি বাংলা। এ রাজ্যের নয়া প্রজন্ম দশটা বিশটা গাড়ির মাঝখানে চলচিত্রের হিরো হিসেবেই দেখেছে। জেলায় জেলায় তাঁকে অনুরসরণ করে তৃণমূলের মূল দলের মধ্যেই দেওয়াল গড়ে নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন অনেকেই। দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া আবছা হতেই উজ্জ্বল হয়েছেন অভিষেক। সেই সূত্রেই জেলায় দলের প্রবীণরা খাটো হয়েছেন নবীনদের উত্থানে। কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে তাঁরা যেন ভেসে বেড়াচ্ছেন। দলেরই কেউ খোঁটা দিয়ে বলছেন, “অপেক্ষা করছেন তাঁদের পানে কেউ নৌকা ভিড়ায় কিনা এইভেবে।”