কংগ্রেসের অভিযোগে শিলমোহর, বহরমপুরে বুলডোজার চালাল বিজেপি

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ফের বুলডোজার চলল শহর বহরমপুরে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল লালদিঘি এলাকায় ভেটারেন্স ক্লাবের গলিতে গজিয়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ। বহুদিন আগেই এই নির্মাণ নিয়ে সরব হয়েছিল কংগ্রেস। সেবারও প্রশাসন অভিযোগ খতিয়ে দেখেছিল। কিন্তু ভেঙে দেওয়া হল বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চন বহরমপুর পুরসভার উপদেষ্টা হিসেবে বসার পর।

ওই এলাকায় এফসিআইয়ের গোডাউন আছে বহুযুগ ধরে। অভিযোগ, তৃণমূল বহরমপুর পুরসভায় ক্ষমতায় আসার পর গোডাউন সংলগ্ন সরকারি জমি জবর দখল হয়ে যায়। ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের একাংশ নেতা চড়া দামে তা বিক্রিও করে দেয়। আর বিক্রির সুবাদে সেখানে কংক্রীটের দেওয়াল উঠে ব্যবসাও শুরু করে দেন কেউ কেউ।

এদিকে অবৈধ নির্মাণের জেরে চওড়া রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় গোডাউনে মাল নামানো ওঠানো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সরকারি দফতরও নাকি পুরসভাকে এই অসুবিধার কথা জানিয়েও লাভ পায়নি। দিনের পর দিন সেখানকার এক হাত মাটিও দখল হয়েছে বহুমূল্যের বিনিময়ে। অভিযোগ এমনই। এদিন ওই অবৈধ নির্মাণ প্রসঙ্গে কাঞ্চন বলেন, “ গোডাউনের দরজা বন্ধ করে মদ খাওয়ার ঠেক বানিয়েছিল তৃণমূলের গুণ্ডারা। পুরসভা এদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।” তিনি দাবি করেন, “ এফসিআই কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তা ভেঙে ফেলা হয়। পুরসভা শুরুতে বাধা দিলে আজকের দিনটি দেখতে হত না।” এমনকি ওই অবৈধ ঘর তৈরি করে যে সেলুন কিংবা হোটেল তৈরি হয়েছিল, সেইসব দোকানের মালিকরা মাসে মাসে সেলামিও দিতেন। কাকে? নেতাকে না কি পুরসভাকে? বিধায়ক বলেছেন তারও তদন্ত হবে।

২০২২ সালে বহরমপুর পুরসভা তৃণমূলের দখলে আসে। চেয়ারম্যান হন নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের পুরবোর্ডেই সরকারি জমি জবর দখল হয়েছে বেশি। তার অন্যতম উদাহরণ এই লালদিঘি এলাকা। এখানকার সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করায় নাম জড়িয়ে যায় ভাকুড়ি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূলের বিপ্লব কুন্ডুর। অভিযোগ, প্রথমদিকে গোডাউনের পেছনে বিপ্লব ও তার দলবল আড্ডার আসর বসাত। রাত দশটা সাড়ে দশটার পরে বিপ্লবের কালো কাঁচ দেওয়া দামি গাড়ি এসে দাঁড়াত গোডাউনের পাশে। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে বাইক চালিয়ে যেতেও ভয় পেতেন আরোহী। ক্রমে ক্রমে ওই এলাকা নিজের দখলে নিয়ে নেয় বিপ্লব। গজিয়ে ওঠে অবৈধ নির্মাণ। তৈরি হয় লালদিঘি যুব সংঘের কার্যালয়। যাঁরা মূলত কালীপুজোর উদ্যোক্তা ছিল ওই এলাকার। কংগ্রেস অভিযোগ করে, পুর চেয়ারম্যান নাড়ুগোপালের প্রশ্রয়েই সরকারি জমি দখল করে ওই এলাকায় ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লব।

এদিন পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কংগ্রেসের হিরু হালদার বলেন, “পুরসভার চেয়ারম্যান, তৃণমূলের বিপ্লব কুন্ডু, প্রশাসনের একটি শ্রেণি যৌথভাবে ওই এলাকায় বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে এই সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ করে বিক্রি করেছিল। আমি পুরসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন ওই অবৈধ নির্মাণ না ভেঙে শাসকের রোষে পড়ার ভয়ে এড়িয়ে গিয়েছিল সেদিন। আজ ভাল লাগছে প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করতে পেরেছে।”

অভিযোগ উড়িয়ে বিপ্লব অবশ্য বলেন, “ এখানে আমার কোনও যোগই নেই। ওখানে বাইরে থেকে এসে কেউ বসেনি। ওরা লালদিঘি এলাকারই বাসিন্দা।” পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হওয়ার আগে বিপ্লব ছিলেন এই ২১ নম্বর ওয়ার্ডের পর্যবেক্ষক। এদিন তিনি বলেন, “ যাঁরা আমার নামে অভিযোগ করছে তাঁরা ইচ্ছে করেই বলছে। যাঁরা দোকান করেছিল তাঁদের কাছে জানতে চাইলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে আমি কোনওভাবে লেনাদেনায় যুক্ত কি না?” তিনি আরও বলেন, “গোটা বহরমপুরে এইরকম অবৈধ নির্মাণ আছে। বর্তমান সরকারের মনে হয়েছে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে তাই ভেঙে ফেলেছে। ভালো করেছে।”

বহরমপুরে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ নতুন নয়। এমনকি এটা যে শুধু তৃণমূলের আমলেই হয়েছে তাও নয়। দীর্ঘদিন বহরমপুর পুরসভা চালিয়েছে কংগ্রেস। সেই সময়ও সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে বলে দাবি করেন পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, “২ হাজার ন’শো বিঘা বহরমপুর পুরসভার মধ্যে পাঁচশো বিঘা সরকারি জমি জবর দখল করে আছে। আর এটা গত চারবছরে হয়নি। চল্লিশ পঞ্চাশ বছর ধরে চলছে। হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ছিল তৃণমূল সরকার। এরা চাইছে সব ভেঙে দিতে তাই দিচ্ছে। কোথাও কাউকে দোষারোপ করে কারো বিরুদ্ধে কথা বলা যেতেই পারে। তারমানেই সেটাই শেষ কথা তা নয়।” এদিন কংগ্রেস কাউন্সিলর হিরুর দাবি নস্যাৎ করে চেয়ারম্যান পাল্টা বলেন, “ খোঁজ নিয়ে দেখুন হিরু হালদারের বসত বাড়িই সরকারি জমিতে তৈরি। সেটিও অবৈধ নির্মাণ। ভেঙে ফেলা উচিত।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights