
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ আগামীকাল রাজ্যের মন্ত্রী সভার সম্প্রসারণ হবে। শপথ নেবেন নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়করা। এই কথা জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। সেই তালিকায় সম্ভাব্য বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। বিজেপি সূত্রে জানা যায়, উত্তর থেকে দক্ষিণ সব দিক খেয়াল রেখেই মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পাবেন বিধায়করা। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এমনই নির্দেশ। সেই হিসেবে মুর্শিদাবাদের একজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম তালিকায় থাকার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বামফ্রন্ট জমানায় জেলার শেষ পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন ডোমকলের প্রাক্তন বিধায়ক আনিসুর রহমান। ৩৪ বছরের বাম রাজত্বে তিনি টানা কুড়ি বছর পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং পশু সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল জমানায় পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা পাননি কোনও বিধায়ক। ‘রাম’ রাজত্বে সেই খরা কাটতে চলেছে বলে খবর।
অথচ ২০২১ সালের নির্বাচনে জেলার বাইশটি আসনের মধ্যে ২০টিতে জিতেছিল তৃণমূল। তৃণমূলের দেড় দশকের শাসনকালে প্রতিমন্ত্রী অবশ্য হয়েছেন চারজন বিধায়ক। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে তৃ ণমূল। সেবার কংগ্রেসের বর্তমান জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীও পেয়েছিলেন মন্ত্রীর তকমা। যদিও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ওই বছরই তৃণমূল সাগরদিঘির বিধায়ক সুব্রত সাহাকে মন্ত্রী করেছিল। তিনি রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যানপালন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। পরে ২০১৬ সালে জঙ্গীপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন প্রথমে শ্রমমন্ত্রী পরে বিদ্যুৎ দফতরের দায়িত্ব পেলেও তা ছিল স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ। সেবার কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পুরস্কার বাবদ হুমায়ুন কবীরও পেয়েছিলেন মন্ত্রীর আসন। তাঁকে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে উপনির্বাচনে হেরে গেলে তাঁকে মন্ত্রীত্বও হারাতে হয়। ২০২১ সালে নির্বাচনে জিতে বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) হয়েছিলেন রঘুনাথগঞ্জের আখরুজ্জামান।
রাজ্যের মন্ত্রী সভায় শপথ নিতে পারেন মুর্শিদাবাদ বিধানসভার দু-বারের বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষ। আর তা হলে তিনিই হবে আনিসুরের উত্তরসূরী। একই মন্ত্রী সভায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও ফরোয়ার্ড ব্লক নেত্রী প্রয়াত ছায়া ঘোষের মেয়ে কান্দির বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষকেও দেখা যেতে পারে বলে বিজেপি সূত্রে জানা যায়। তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে প্রথমবারেই জয়ী হয়েছেন পদ্ম প্রতীকে।
এদিন বিজেপি’র মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সৌমেন মন্ডল বলেন, ” এ ব্যাপারে আমার কাছে সঠিক খবর নেই। আমিও আপনাদের মতোই শুনছি গৌরীদা’র মন্ত্রী হওয়ার কথা। আগামীকালকেই তা পরিস্কার হয়ে যাবে।” তবে গৌরীকে মুর্শিদাবাদের সঙ্গে খাপ খায় এমন মন্ত্রীত্বের দাবি করছেন তাঁর অনুগামীরা। এক বিজেপি কার্যকর্তা বলেন, ” পর্যটন কিংবা কৃষি এই দুটি দফতর পেলে জেলার দিকে নজর পড়বে। যদিও গৌরীদা মন্ত্রী হলে হবেন রাজ্যেরই মন্ত্রী। তবু আশা এই যা।” সূত্রের দাবি তাঁকে পরিবহন মন্ত্রী করা হতে পারে। ওই পদে তৃণমূল সরকারের প্রথম পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন শুভেন্দু।
২০২৬ এ গেরুয়া ঝড়ে জেলা থেকে আটজন বিধায়ক জয়ী হয়েছেন পদ্ম প্রতীকে। তারমধ্যে মুর্শিদাবাদের গৌরী আর বহরমপুরের সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চন দু-বারের বিধায়ক শুধু নয় সংখ্যালঘু অধ্যূষিত মুর্শিদাবাদের মাটিতে পদ্ম ফোটানোর কৃতিত্বও তাঁদের। তবে মন্ত্রীর তালিকায় সুব্রতর নাম না থাকায় আশাহত তাঁর অনুগামীরা। বহরমপুর বিধানসভায় তাঁর এক ঘনিষ্ঠের দাবি, “জেলার সদর শহরের একজন বিধায়ক মন্ত্রী হলে দলের ও গুরুত্ব বাড়ে। কিন্তু কাঞ্চনের কথা দল ভাবলোই না।”