উৎসবের মরশুমে নকুলদানাও দামি

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোয় আনাজ থেকে ফল- মিষ্টি সব কিছুরই চড়া দাম। উৎসবের মরশুমে এগুলোর দাম বৃদ্ধি আজ বাঙালির গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। নতুন হোক বা পুরনো, যে কোনও সরকার সবকিছু জেনেশুনেও সাধারণ মানুষকে ভরসা দিয়ে বিক্রেতাকে ভরকাতে হাটে বাজারে দু-এক চক্কর ঘুরিয়ে আনেন আধিকারিকদের। ওই ক’দিন যা এক আধটাকা দাম কমে। কিন্তু বছরভর বহাল তবিয়তে থাকেন মধ্যস্বত্বভোগী। বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে যাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সবকিছুর মধ্যে এবার অগ্নিমূল্যের বাজারে নজর কেড়েছে ধবধবে নকুল দানা। বাতাসারও দাম বেশি। তাই বলে একরত্তি নকুলদানা সুযোগ নেবে অগ্নিমূল্যের! ক্রেতা তা মানতে নারাজ। ধবধবে সাদা একটুকরো মিষ্টির কদর ঘরে ঘরে। যাঁরা নিত্য পুজো করেন তাদের অনেকেই সন্দেশের বদলে চার টুকরো নকুলদানা দিয়েই কাজ সারেন। তাঁরাই যখন লক্ষ্মী পুজোর দিন দোকানে গিয়েছেন নকুলদানা কিনতে তখন তার দাম দেখে মাথায় হাত।

বহরমপুরের স্বর্ণময়ী বাজারের এক মুদি খানার দোকানে ক্রেতা মৌমিতা ভট্ট সে কথা জানিয়ে বলেন, ” এই একরত্তি নকুলদানাও আজকের দিনে দামি। যে প্যাকেট আমি দিন পনের আগে নিয়ে গিয়েছি সেই একই প্যাকেটের আজকের দামও দশ টাকা কিন্তু প্যাকেটটাই হাল্কা।” বাড়ির পুজোর জন্য বাতাসা কিনেছেন সুকুমার ঘোষ। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, ” বাতাসা কিনতে গেলেও ভাবতে হচ্ছে একশো নেব না দেড়শো নেব।”

এই নকুলদানা তৈরি হয় চিনির সেরা দিয়ে। সেই চিনির দাম গত কয়েকমাসে বাড়তে বাড়তে সত্তর টাকায় ছুঁয়েছিল। সেই দাম কমেছে ঠিকই। কিন্তু এখনও তা পঞ্চাশের নিচে যেমন নামেনি তেমনি কোথাও কোথাও ৬০ টাকা কেজি দরেও চিনি কিনতে হচ্ছে। যদিও উৎসবের মরশুমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল কেন্দ্র। একদিকে আমদানি শুল্কের সময়সীমা ৩১ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে চিনির বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট এবং মজুতদারি রুখতে ব্যবসায়ীদের জন্য মজুতের সীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার কুইন্টাল চিনি মজুত রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চিনি মান্ডির দেওয়া তথ্য অনুসারে গতকাল কলকাতায় মাঝারি আকারের চিনির কিলো প্রতি দাম ছিল ৫৯টাকা। স্বাভাবিকভাবে তার প্রভাব পড়ছে নকুলদানা, বাতাসা তৈরিতে। তবে এই দাম বছরের শেষ পর্যন্ত কমবে বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞ মহল। চলতি বছর চিনির উৎপাদন কম হওয়ার আগাম আভাস রয়েছে। সেই হিসেবেই বলা যায়, আগামীদিনে চিনির দাম চড়বে বই নামবে না। রোগের বাজারে সুগার অতি পরিচিত নাম। চরম চাপের কাজের দুনিয়ার সৌজন্যে তার অবস্থান আজ ঘরে ঘরে। সে ঘরে সুগার অর্থাৎ চিনির নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ। কিন্তু চিনির বাজার দর বেড়ে যাওয়ায় তার অবাধ প্রবেশ সর্বত্রই অঘোষিত মানা। যা শুরু হল উৎসবের মরশুমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights