
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ জনসংযোগ করতে মুর্শিদাবাদে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দুই সাংগঠনিক জেলাতেই হবে তাঁর সভা। জঙ্গিপুরের তাঁর জনসভার স্থান পরিবর্তন না হলেও স্থান পরিবর্তন হয়েছে বহরমপুরের ক্ষেত্রে। মাস খানেক ধরে দেশের রাজনীতিতে ছাপ ফেলেছে মুর্শিদাবাদ। বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত পুঁতে রাজনীতির ভিতে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়ে ‘বাদশা’র তকমা কুড়িয়েছেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, যিনি এখন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। অভিষেক সেই বেলডাঙাতেই এক কিলোমিটারের বেশি র্যালি করবেন শনিবার।
সূত্রের দাবি, ১৭ তারিখ বেলডাঙার সিআরজিএস থেকে অভিষেকের র্যালি বেড়িয়ে পাঁচরাহা মোড়ে আসবে। সেখানেই কিংবা পাশে ছাপাখানার মোড়ে তার সভাও হবে। বহরমপুর সংগঠনের অধীন প্রত্যেক বিধানসভা থেকেই লোক যাবেন সেই র্যালিতে যোগ দিতে। সেখান থেকে হুমায়ুনকে ফোকাসে রেখেই বেলডাঙার মানুষকে পক্ষে টানতে বক্তব্য রাখবেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। যা শুনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদকে কটাক্ষ করেন হুমায়ুন। বলেন, “বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের নেতারা তাঁদের সর্বভারতীয় নেতাকে বুথ লেভেলে নামিয়ে এনেছে। এখানেই আমার নৈতিক জয়।”
হুমায়ুন কবীর যে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসিয়েছেন তা স্বীকারও করছেন তৃণমূলের বেলডাঙার বিধায়ক হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, “বিজেপি আর হুমায়ুন এক। দু’জনেই সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলছে। মানুষ সাময়িক বিভ্রান্ত যে হয়েছেন তা অস্বীকার করছি না। তবে ধোপে টিকবে না।” তাই কি হুমায়ুনের ডেরায় অভিষেককে এনে পাল্টা চাল দিতে চাইছে তৃণমূল ? তাও ঘুরিয়ে স্বীকার করে বিধায়কের জবাব, ” প্রথমত, অভিষেক কোথায় সভা করবেন আর কোথায় সভা করবেন না তা আমরা ঠিক করি না। তবে আমি চেয়েছিলাম আমার এখানে শীর্ষ নেতার সভা হোক। মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে হুমায়ুন। তার পাল্টা বোঝাতে মাঠে নেমে আমাদেরও অসুবিধা হচ্ছে।”
এদিকে হুমায়ুন কাল বাদ পরশু হরিহরপাড়ায় জনসভা করবেন। আর এদিন তিনি বলেন, ” অভিষেক যেদিন বেলডাঙায় সভা করবেন সেদিন আমি ডোমকলের জনকল্যাণ সমিতির মাঠে সভা করবো। আর ১৯ তারিখ বেলডাঙায় রেলের মাঠে মিছিল করবো। দেখবেন কার সভায় লোক বেশি হয়। আমি সর্বভারতীয় নেতাকে মুর্শিদাবাদের মাটিতে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুথ লেভেলে নামিয়ে আনবো।”