পারস্পরিক টিপ্পনী কাটল তৃণমূল আর কংগ্রেস, ডোন্ট কেয়ার কাঞ্চন

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়ারদের মনোবল ভাঙতে স্লেজিং করার রীতি পরবর্তী কালে ভারতও অনুসরণ করেছিল। সেই রীতি এখন পাড়া ক্রিকেটেও চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবারে বহরমপুরে প্রশাসনিক ভবনে ছাব্বিশের ভোট যুদ্ধে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে দলে ভারি তৃণমূল হাঁটল সেই স্লেজিংয়ের রাস্তায়। আর তা শুনতে হল কংগ্রেস কর্মীদের। তাঁদের মনোবলে চিড় ধরাতে তৃণমূল যতো জোরে আওয়াজ দিল ক্ষমতা অনুযায়ী কংগ্রেসও আওয়াজ দিতে পিছপা হয়নি। আর স্নায়ূ যুদ্ধে পিছিয়ে গিয়ে অধীর চৌধুরী বলে বসলেন ” হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার।” আর তাই নিয়ে দিনভর কটাক্ষ পাল্টা কটাক্ষের বন্যা চললো অধীর ও নাড়ুগোপালের সমর্থকদের মধ্যে। বিজেপির অবশ্য সেদিকে ডোন্ট কেয়ার।
আগামী পাঁচ বছরের জন্য অভিভাবক কে হবেন বহরমপুরের? তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বিজেপি’র সুব্রত ওরফে কাঞ্চন, না কি জাতীয় কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী ? এই প্রশ্নে বুঁদ বহরমপুরবাসী। এমন সময় বিধায়ক হওয়ার দৌড়ে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দিলেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। তিন জনেই বহরমপুরের ভূমিপুত্র। তিন জনেরই জনপ্রতিনিধিত্বের সাক্ষী বহরমপুর। তিন জনেই আলাদা করে দাবি করেছেন মানুষ তাঁদেরকেই নির্বাচনে জিতিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছেন।
মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার রাস্তায় এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায়। একুশের নির্বাচনে জিতে কাঞ্চন বিধায়ক হয়েছিলেন। বহরমপুরবাসী তাঁকে পরখ করেছেন গত পাঁচ বছর। নিজের প্রাপ্ত বিধায়ক তহবিলের একশো শতাংশ টাকা সরকারি দলের হাজার বিরোধীতাতেও খরচ করেছেন বলে দাবি করেছেন। এবারও তিনি পরীক্ষায় বসছেন পাশ করার লক্ষ্য নিয়েই। মনোনয়ন জমা দিয়ে কাঞ্চন এদিন বলেন, ” মানুষ ২০২৬ এও একুশের মতো আশীর্বাদ করবেন পদ্ম প্রতীককে।”
তৃণমূলের নাড়ুগোপাল দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী হচ্ছেন বহরমপুরের। গত নির্বাচনে কংগ্রেসকে তিন নম্বরে পাঠিয়ে নিজেকে জয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। দলের শীর্ষ নেতা কর্মীদের কাছে বার্তা দিতে পেরেছিলেন চেষ্টা করলে বিধায়ক হওয়া তাঁর কাছে অসুবিধার নয়। একুশের নির্বাচনের আগে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছিলেন। এবার তাঁর সঙ্গে আছে পুর প্রধানের তকমা। ২০২২ থেকে তিনিও মানুষের মাঝখানে নিজেকে অল্প পরিসরে হলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে চিনিয়ে দিতে পেরেছেন তিনি। আর সেই কর্মের ভিত্তিতেই ফলের আশায় মনোনয়ন জমা দিয়ে নাড়ুগোপাল বলেন, ” আমরা কাজে বিশ্বাস করি কথায় নয়।” এদিন তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পথে তৃণমূল কর্মীদের ভিড়ের বহর দেখলেও আন্দাজ করা যায় গত পাঁচ বছরে তাঁর শক্তি বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর একজন যিনি বিধায়ক হিসেবে এবার মনোনয়ন দাখিল করলেন কংগ্রেসের প্রতীকে, তিনি অধীর চৌধুরী। তিনি প্রবীণ। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৪, প্রত্যেক পাঁচ বছর অন্তর তিনি বহরমপুর কেন্দ্র থেকে নিজের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাংসদ নির্বাচনের লড়াই। এবার যুদ্ধ তুলনামূলক ছোট ক্ষেত্রে। কিন্তু তাঁর কাজের ফিরিস্তি বহরমপুরের মানুষের মুখে মুখে যেমন ঘোরে তেমনি তাঁর ব্যর্থতার দিক নিয়েও নিরন্তর কাঁটা ছেঁড়া চলে শহর বহরমপুরের অলিতে গলিতে। ফের তাঁকে বহরমপুরবাসী মনোনিত করবেন কি না তারজন্য অপেক্ষা করতে হবে এখনও এক মাসের বেশি সময়।